রোববার

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১


১৬ ফাল্গুন ১৪২৭,

১৫ রজব ১৪৪২

দিন বদল বাংলাদেশ

জনগণকে উপহার দিয়ে বিশ্বে নজির স্থাপন করলেন শেখ হাসিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক || দিনবদলবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৪৫, ২৩ জানুয়ারি ২০২১  
জনগণকে উপহার দিয়ে বিশ্বে নজির স্থাপন করলেন শেখ হাসিনা

ছবি: দিনবদলবিডি

মুজিববর্ষে ভূমিহীন-গৃহহীন ৭০ হাজার পরিবারকে বাড়ি দিয়ে অন্যন্য নজির স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশ্বে এটিই গৃহহীন মানুষকে বিনামূল্যে ঘর করে দেওয়ার সবচেয়ে বড় কর্মসূচি। শনিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।

এ বিষয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর পরিচালক মো. মাহবুব হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, পৃথিবীতে এটিই প্রথম এবং একমাত্র ঘটনা; একসঙ্গে এতো মানুষকে জমির মালিকানা দিয়ে পাকা ঘর করে দেওয়া। এটি মূলত মুজিববর্ষে গরীব ও অসহায় মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার।

তথ্য মতে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে মুজিববর্ষ ঘোষণা করে সরকার। মুজিববর্ষে কেউ গৃহহীন থাকবে না- এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আশ্রায়ন-২ প্রকল্পের অধীনে চলমান কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে সারাদেশে ঘর পেলো ৬৯ হাজার ৯০৪ ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবার। দেশের ভূমিহীন ও গৃহহীনদের ঘর করে দিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৯ লাখ পরিবারকে তালিকাভূক্ত করেছে শেখ হাসিনা সরকার।

৬৯ হাজার ৯০৪ পরিবারের মধ্যে ৬৬ হাজার ১৮৯টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে দুই শতাংশ খাস জমির মালিকানা দিয়ে বিনা পয়সায় ২ কক্ষবিশিষ্ট ঘর মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একইসঙ্গে ব্যারাকের মাধ্যমে ২১টি জেলার ৩৬টি উপজেলায় ৪৪ প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৭১৫টি পরিবারকে ব্যারাকে পুনর্বাসন করা হয়।

প্রতিটি ঘর দুই কক্ষ বিশিষ্ট। এতে দুটি রুম ছাড়াও সামনে একটি বারান্দা, একটি টয়লেট, একটি রান্নাঘর এবং একটি খোলা জায়গা থাকবে।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো- ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্ন অসহায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন, ঋণপ্রদান ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহে সক্ষম করে তোলা এবং আয় বাড়ে এমন কার্যক্রম সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণ।

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারের এসব ঘর পেয়ে আনন্দে আত্মহারা অনেক ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবার। 

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের শাহপুর গ্রামের মোমেনা খাতুন। ২০ বছর আগে স্বামী মারা যায়। এরপর শুরু হয় তার বেঁচে থাকার লড়াই। স্বামী মারা যাওয়ার পরপরই শিকার হোন নদী ভাঙনের। হারিয়ে যায় বাসস্থানের জায়গাটুকুও। ছোট সন্তানদের লালনপালন করতে বছরের পর বছর ঠিকানাহীন জীবন পার করছেন। পরিবারে রয়েছে ছোট ছোট দুই ছেলে ও এক মেয়ে। তাদের আহার জোগাতে কখনো অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। এখন ঘর পেয়ে খুব খুশি তিনি।

বাজিতপুরের শোভারামপুরের ঊষা বেগম বলেন, ‘স্বামী মরণের পর থেকে দুই মাইয়া লইয়া মাইনষের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছি। পুলাপাইনডিরে লইয়া কত সময় না খাইয়া থাকছি। কেও জিগাও না।’ তাই গরিব-অসহায় মানুষের পাশে এভাবে দাঁড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তার দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

মাগুরা সদরের খালিমপুর গ্রামের ভূমিহীন দিনমজুর আক্কাস আলী নিজের জন্য তৈরি পাকা ঘরের দিকে চেয়ে দুচোখে জল ধরে রাখতে পারেননি। সারা জীবন দিনমজুরি আর রাতে স্থানীয় বাজারে নৈশপ্রহরীর কাজ করে মাথা গোজার ঠাঁই করতে পারেননি। স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে অন্যের জমিতে ছাপড়া করে থাকেন। এ অবস্থায় সরকার থেকে ঘর পেয়ে তিনি খুব খুশি।

একই অবস্থা বিধবা জাহেদা বিবির। স্বামী জামির হোসেন মারা যাওয়ার পর সহায় সম্বলহীন জাহেদার দিন চলে মানুষের বাড়িতে বাড়িতে চেয়ে চিন্তে। মাথা গোঁজার ঠাঁই না থাকায় রাতের বেলায় অন্যের বাড়ির বারান্দায় থাকেন। জীবনের শেষ সময়ে এ ঘর পেয়ে সুখের যেন সীমা নেই তার।

গয়েশপুরের বিধবা নারী রিজিয়া খাতুন, আমলসারের রামচন্দ্রপুরের শাহীন মোল্যা বলেন, কোনো দিন পাকা বাড়িতে থাকতে পারব স্বপ্নেও ভাবিনি। সেই স্বপ্ন আজ বাস্তবে ধরা দিয়েছে। আল্লাহ প্রধানমন্ত্রীকে বঁচিয়ে রাখুক।

কিশোরগঞ্জের মারজাহান বেগম। তিন মাসের অন্তঃসত্বা অবস্থায় তার স্বামী মারা যান। গত ৩০ বছর ধরে যুদ্ধ করে ছেলেকে বড় করে তুলেছেন। জীবনের শেষ বেলায় তিনি পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর।

দিনবদলবিডি/এমআর

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়