রোববার

১৩ জুন ২০২১


৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮,

০২ জ্বিলকদ ১৪৪২

দিন বদল বাংলাদেশ

হাসপাতালে ঈদ: রোগীর পাশে থেকে আনন্দ ভাগ ডাক্তার-নার্স-কর্মচারীদের

নিজস্ব সংবাদদাতা || দিনবদলবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:৫৮, ১৪ মে ২০২১   আপডেট: ২১:০৫, ১৪ মে ২০২১
হাসপাতালে ঈদ: রোগীর পাশে থেকে আনন্দ ভাগ ডাক্তার-নার্স-কর্মচারীদের

ঈদের দিলেও হাসপাতালে সেবা দিচ্ছেন চিকিৎসা কর্মীরা

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের সাথে ঈদ আনন্দ মধ্যে দিয়ে বিরামহীন ভাবে রোগীদেরকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন ডাক্তার, নার্স, কর্মচারী ও কর্মকর্তারা।

হাসপাতালের একজন সহযোগী অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান জানান, বছরের একটা খুশির দিন ঈদ আনন্দ। সেই আনন্দকে পরিবারের সঙ্গে না করে হাসপাতালে এসে রোগীদের সঙ্গে ঈদআনন্দ ভাগ করে নিয়ে তাদেরকে সেবা করে যাচ্ছি। তাদের খুশি মানেই আমাদের আনন্দ।

সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত তানিয়া ইসলাম জানান,  দু’মাস আগে বিয়ে করে স্বপ্নের সংসার শুরু করি। গত মাসে করোনা হানা দেয় আমাদের সংসারে। তিন দফায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছি। সুস্থ হয়ে আবারো কাজে ফিরেছি। হাসপাতালে রোগীদের বিরামহীন সেবায় নিয়োজিত থাকতে পেরে নিজেকে অনেক ধন্য মনে করি।  

আজ ঈদুল ফিতরের দিনেও করোনা রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি । শুধু তানিয়া ইসলাম নয়, এমন সম্মুখসারির যোদ্ধা কয়েক হাজার নার্স। তারা ঈদের আনন্দকে জলাঞ্জলি দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। করোনা রোগীদের কাছাকাছি গিয়ে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন তারা। মৃত্যুভয়কে জয় করে প্রতিটি হাসপাতালে সাহসিকতার সঙ্গে করোনাযুদ্ধে লড়ে যাচ্ছেন সম্মুখ সারির এই যোদ্ধারা। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন। আবার অনেকে মৃত্যুবরণ করেছেন। তবুও তারা থেমে নেই, পরিবারের সদস্যদের ফেলে ঈদের দিনেও হাসপাতালে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। পরিবারের সঙ্গে নয়, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন রোগীদের সঙ্গে।

ঢামেক হাসপাতালে সিনিয়র স্টাফ নার্স তানিয়া ইসলাম বলেন, আন্তরিকভাবে সেবা প্রদানের মধ্য দিয়ে একজন রোগীকে সুস্থ করে তোলা হয়। আর সেবা দিতে গিয়ে রোগীদের পরিবারের সদস্য মনে করি আমরা। আমাদের পরিবারের সদস্যরাই মানসিকভাবে সাহস দেয়। তাই করোনা রোগীদের কাছাকাছি যেতে ভয় পাই না। কর্মদক্ষতা ও মানবিক আচরণ দিয়ে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার রোগীর সেবা দিয়ে যাচ্ছি।


বৈশ্বিক মহামারি করোনা চোখে আঙুল দিয়ে পেশার গুরুত্ব বুঝিয়ে গেলো। করোনা মোকাবিলায় আত্মনিয়োগকৃত পেশার মানুষের মধ্যে সম্মুখে নার্সরা। তারা জীবনের মায়া ত্যাগ করেই করোনা রোগীর আইসিইউ ইউনিট ও সাধারণ ওয়ার্ডে রোগীদের সেবায় শ্রম নিয়োগ করেন। করোনা সংক্রমণের প্রকোপে তিন হাজারেও বেশি নার্স করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যুবরণ করেছেন ২৫ জন। এখনও বিশ্বে করোনা নিয়ন্ত্রণে আসেনি। নার্সদের জীবনের ঝুঁকি কমেনি। তবুও সেবার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন নার্সরা। করোনা অদৃশ্য ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে জনগণের স্বাস্থ্যসেবায় সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন তারা।


নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের তথ্য মতে, বাংলাদেশে বিশ্ব মানের নার্স গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের গৃহীত ও বাস্তবায়িত কার্যক্রমসমূহ সর্বস্তরে প্রশংসিত হয়েছে। রোগীর সর্বোত্তম সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিশেষায়িত নার্স গড়ে তোলা হয়েছে, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে নার্সিং সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে নানামুখী কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে। দেশের জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে তথা মাতৃ ও শিশু মৃত্যু হার কমানোর ক্ষেত্রে আমাদের নার্সরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। স্বাস্থ্য খাতে সরকারের সাফল্যের অংশীদার নার্সরা। 

বর্তমানে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের অধীনে সারা দেশে সর্বমোট ৬০টি নার্সিং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি শিক্ষা কার্যক্রম চলমান আছে। এছাড়াও নার্সিং বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ বৃদ্ধি করা হয়েছে। নার্সিং কলেজ ও ইনস্টিটিউটসমূহে কর্মরত শিক্ষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান আছে এবং নার্সিং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। দক্ষ নার্স ও মিডওয়াইফ গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে নার্সিং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিক নার্সিং শিক্ষাব্যবস্থা রয়েছে।

বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএনএ) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইসমত আরা পারভীন বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে মানুষ আজ দিশেহারা। প্রতি মুহূর্তে  না ফেরার দেশে চলে যাচ্ছে মানুষ। তবুও প্রতিটি নার্স করোনা আক্রান্ত রোগীদের কাছে গিয়ে চিকিৎসা সেবা দিতে ভয় পাচ্ছে না। মানুষের মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ডাক্তার ও নার্স একমাত্র ভরসা। আর তারাই হচ্ছে সম্মুখসারির যোদ্ধা।

তিনি বলেন, ভয়-ভীতি দূরে ঠেলে নার্সরা জীবনের মায়া ত্যাগ করে সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। তারা নিবেদিতভাবে রোগীদের সেবার কাজ করে যাচ্ছেন।

এ দিকে হাসপাতালের কর্মচারীদের নেতা আবু সাঈদ বলেন,  আমাদেরসহ কর্মীরা রাতে দিনে রোগীদেরকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এই করোনার ঝুকিতেও তারা সেবা দিতে বিন্দু মাত্র পিছ পা হয়নি। এমন একটা ঈদআনন্দদের দিনেও পরিবারপরিজনকে রেখে তারা রোগীদেরকে সেবা দেওয়ার জন্য হাসপাতালে ডিউটি করছেন। এই আমাদের জীবন। তিনি আরো বলেন, আমাদের সেবায়  রোগীরা যদি খুশি হন তা হলে আমরা আনন্দিত।

দিনবদলবিডি/এইচ/জিএ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়