বৃহস্পতিবার

০৩ ডিসেম্বর ২০২০


১৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৭,

১৭ রবিউস সানি ১৪৪২

দিন বদল বাংলাদেশ

দেশের অবৈধ টাকায় কানাডায় তাদের বিলাসী ‘বেগম পাড়া’

নিজস্ব প্রতিবেদক || দিনবদলবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৪২, ২১ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৯:৫১, ২১ নভেম্বর ২০২০
দেশের অবৈধ টাকায় কানাডায় তাদের বিলাসী ‘বেগম পাড়া’

সংগৃহীত ছবি

কথিত আছে বেগম পাড়ার বউরা আয়েশী জীবন যাপন করেন। আর তাদের কাছে অবৈধ উপার্জনের টাকা পাঠান বাংলাদেশে থাকা স্বামীরা। দেশে উপার্জনে ক্লান্তি আসলে অবসর কাটাতে কানাডায় বেগমদের কাছে যান এসব সাহেবরা। আর এ কারণেই স্থানটির নাম দেওয়া হয়েছে বেগম পাড়া। 

কোটি কোটি টাকা পাচার করে কানাডার বেগম পাড়ায় অনেক বাংলাদেশির স্থায়ী হওয়ার ঘটনা এখন ওপেন সিক্রেট। এমনকি সরকারের অনেক আমলারও বাড়ি আছে বেগম পাড়ায়। 

সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন জানান, সেখানে অনেক সরকারি কর্মকর্তারও বাড়ি আছে। তাদের ছেলে-মেয়েরা সেখানে বাস করেন।

এ তথ্য আছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছেও। দুদক কমিশনার (অনুসন্ধান) মোজাম্মেল হক জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা এ অভিযোগ শুনে আসছেন। তবে সেখানে কত সংখ্যক বাড়ি আছে, এর সুনির্দিষ্ট সংখ্যা তাদের কাছে নেই।

তিনি জানান, সেখানে কত সংখ্যক বাড়ি আছে এর সঠিক পরিসংখ্যান কারো কাছেই নেই। এটি এখনো একটি মিথ। তবে অভিযোগের অনুসন্ধান হচ্ছে। বিষয় উদঘাটন হলে এর সঠিক সংখ্যা জানাতে পারবো। 

কানাডায় এ রকম আরো অনেক বেগম পাড়া আছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ আছে ৩৬শ’ কোটি টাকা পাচার করে পলাতক আলোচিত পিকে হালদারও বেগম পাড়ায় স্থায়ী হয়েছে। 

স্থানীয় বাংলাদেশিরা টরন্টোর একটি এলাকাকে ‘বেগম পাড়া’ বলে ডাকে।

তাদের ভাষ্য মতে, এই বাংলাদেশি ‘বেগম’দের আরাম-আয়েশ দেখলে মোগল বেগমরাও হিংসায় জ্বলতেন। তাদের অ্যাপার্টমেন্টগুলো বিলাসসামগ্রীতে ভরা। তাদের সন্তানেরা সে দেশের ভালো ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করে। ‘বেগম’দের একমাত্র কাজ হলো ছেলেমেয়েদের দেখাশোনা করা আর ‘আরাম’ করা। সারা কানাডায় এ রকম অনেকগুলো ‘বেগম পাড়া’ আছে।

বিদেশে তারা এই ‘সেকেন্ড হোম’ বানিয়েছেন বিনিয়োগকারী কোটায়। খরচ বেশি নয়; মাত্র দেড় লাখ কানাডীয় ডলার অর্থাৎ এক কোটি ১০ লাখ টাকা জমা দিলেই কানাডা আপনাকে নাগরিকত্ব দেবে। বেগমদেরও এই পরিমাণ টাকা দিতে হয়েছে। বিনিময়ে তারা পেয়েছেন ‘প্রবাসে নিরাপদ ঘর’। 

যখন আরাম চাইবেন, যখন বিপদের দিনে দেশ থেকে পালাতে চাইবেন; তখন সব সুবিধা আর নিরাপত্তা নিয়ে এই ঘর ‘বেগম সাহেবা’সহ অপেক্ষা করবে। এটা বয়ে বেড়াতে হয় না, বয়ে বেড়াতে হয় কেবল দেড় লাখ ডলার দিয়ে কেনা নাগরিকত্বের কার্ডটা। এই কার্ডটাই তাদের ‘মাতৃভূমির বালা-মুসিবত’ থেকে রক্ষা করবে। 

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ট্যাক্স জাস্টিস নেটওয়ার্ক জানাচ্ছে, ১৯৭৬ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে এক লাখ ৯৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচার হয়েছে। 

ইউএনডিপি জানাচ্ছে, ২০১৩ সাল পর্যন্ত অবৈধ পুঁজি পাচারে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষে ছিল। তারা আরো বলছে, কালোটাকাই এ দেশের অর্থনীতির ৩৫ দশমিক ২৯ শতাংশের চালক।

দিনবদলবিডি/এস

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়