রোববার

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১


১৬ ফাল্গুন ১৪২৭,

১৫ রজব ১৪৪২

দিন বদল বাংলাদেশ

মার্কিন-লঙ্কা প্রতিরক্ষা সহযোগিতা: সাম্প্রতিক প্রবণতা

সম্পাদকীয় বিভাগ || দিনবদলবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:২০, ২৪ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ২২:৩৩, ২৪ জানুয়ারি ২০২১
মার্কিন-লঙ্কা প্রতিরক্ষা সহযোগিতা: সাম্প্রতিক প্রবণতা

শ্রীলঙ্কান প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসার সঙ্গে চীনের উচ্চপদস্থ কূটনীতিক ইয়াং জিচির সাক্ষাতের পর গত ২৭ অক্টোবর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর ২ দিনের  শ্রীলঙ্কা সফরে লঙ্কা-মার্কিন প্রতিরক্ষা সম্পর্ক সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। পম্পেওর সফর সুনির্দিষ্টভাবে গুরুত্বপূর্ণ যেখানে তিনি চীনপন্থি কলম্বো প্রশাসনকে জানিয়ে দিয়েছেন যে 'চীনা কমিউনিস্ট পার্টি একটি নির্মম ঘাতক' আর এর বিপরীতে 'মার্কিনিদের অবস্থান এর তুলনায়  ভিন্ন- আমরা এসেছি বন্ধু হিসেবে, সঙ্গী হিসেবে'। মার্কিন কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে ভারত সাগর ও এর পরিপার্শ্বের এলাকায় চীনাদের আধিপত্য কমাতে তারা শ্রীলঙ্কার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহায়তা সম্পর্ক স্থাপনের অভিপ্রায়ে কাজ করছে। তবে এই অঞ্চলে গত কয়েক বছর ধরে কেন্দ্রীভূত চীন-মার্কিন-ভারতীয় স্বার্থ ও দেশীয় স্তরের স্বার্থ সংঘাত মার্কিনি প্রতিরক্ষা সহযোগিতার যাত্রাপথ অসমতল করে তুলেছে। 

অর্থনৈতিক মন্দার কারণে যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে সমমনা আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ভারত মহাসাগরে চীনের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখতে চায়। 'রাজনীতিতে ১ সপ্তাহ অনেক সময়' গত তিন বছরের ঘটনা প্রবাহে এই কথাটি প্রণিধানযোগ্য হয়ে উঠেছে। ওই সময়ে ওয়াশিংটনের ভারত সাগরে থাকার দুইটি প্রধান কারণ ছিল। যার একটি, তারা চেয়েছিল মধ্যপ্রাচ্য থেকে কেনা জ্বালানি পণ্যের ভারত মহাসাগর হয়ে পরিবহনের নিরাপত্তা।  দ্বিতীয় কারণটি ভারত সাগরে চীনের বর্তমান উপস্থিতির ভারসাম্য। মধ্যপ্রাচ্য থেকে ওয়াশিংটন জ্বালানি পণ্য আমদানি নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনলেও ট্রাম্প প্রশাসন ভারত সাগরে চীনের সঙ্গে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা এমন কি পাল্টা জবাব দেওয়ার দিকে জোর দিয়েছিল। যদিও তাদের অর্থনীতি এখন পড়তির দিকে, তবুও ওয়াশিংটন ভারত মহাসাগরে তাদের স্বার্থকে আরো এগিয়ে নিতে আঞ্চলিক সহযোগিদের সঙ্গে নিয়ে জোট গড়তে আগ্রহী।

শ্রীলঙ্কা সে ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি আদর্শ অংশীদার। দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মাহিন্দ্রা রাজাপাকসা চীনের সহায়তায় সিংহলি ও তামিলদের মধ্যে হওয়া গৃহযুদ্ধ মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছিল।  গৃহযুদ্ধের পর শ্রীলঙ্কার আর্থিকভাবে টিকে থাকার জন্য বড় ঋণ সহায়তা প্রদান করে চীন, নইলে তারা টিকতে পারতো না। যার ফলে চীন ৯৯ বছরের জন্য ইজারাতে শ্রীলঙ্কার হামবান্টোটা বন্দরের নিয়ন্ত্রণ অর্জন করে। বন্দরটি চীনের দিক থেকে ভারতের প্রতি  “স্ট্রিং অ্যান্ড পার্ল” কৌশল মেনে নির্মাণ করা হয়েছে, যা যুগপৎ চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড  ইনিশিয়েটিভেরও অংশ। একই সঙ্গে এটি  চীনকে কিছুটা মধ্যপ্রাচ্য থেকে তার অত্যাবশ্যক জ্বালানি আমদানির সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে। এ অবস্থায় ওয়াশিংটন যদি কলম্বোকে দাঁড় করিয়ে দিতে পারে বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে, তবে  এই অঞ্চলে প্রতিপত্তি বিস্তার ও অবস্থান নেওয়ার পক্ষে এটি হবে একটি চপেটাঘাত স্বরূপ। 

অপর কারণটি কারণ হচ্ছে, ওয়াশিংটন শ্রীলঙ্কায় একটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করতে চায়। প্রথম এবং সর্বাগ্রে, একটি সামরিক স্থাপনা যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন ও চীনা সামুদ্রিক যানের দিকে নজর রাখতে সক্ষম করবে। এটি হলে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরে নজরদারির মাধ্যমে এই  অঞ্চলে চীনের প্রভাব কমাতে সহায়তা করবে যা কি না  চীনের পশ্চিম প্রদেশে পাইপ লাইনের মাধ্যমে ইরান থেকে তেল ও তরল গ্যাস সরবরাহ করে। একইসঙ্গে তেলের ট্যাংকারের মাধ্যমে জ্বালানি নেওয়ার ক্ষেত্রে চীন-ভারতীয় হুমকিও হ্রাস পাবে।

এ ছাড়াও, শ্রীলঙ্কায় ঘাঁটি নির্মাণ করতে চাওয়ার আরো একটি কারণ রয়েছে ওয়াশিংটনের। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বর্তমানে মার্কিন যে ঘাঁটি রয়েছে তা স্থানীয় চাগোসিয়ানদের জোর করে স্থানচ্যুত করে নির্মিত হয়েছিল, যা সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মনোযোগ পেয়েছে, এটি মার্কিনিদের জন্য অযাচিত এবং প্রতিকূল অবস্থা তৈরি করেছে। ফলে দ্বীপটি এবং এর ঘাঁটির জায়গাটি চাগোসিয়ানদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি এমনটি ঘটে, ভারতীয় মহাসাগরে প্রভাব ধরে রাখতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরো একটি ঘাঁটি প্রয়োজন হবে। সেক্ষেত্রে সম্ভবত ওয়াশিংটন একযোগে মালদ্বীপ এবং সেশেলেসের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কাতে ঘাঁটি গড়তে যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে। 

যদিও মার্কিনিরা চীন-শ্রীলংকার দীর্ঘ ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক বিষয়ে অবগত আছে। প্রাথমিকভাবে, তারা সংসদীয় অনুমোদন ছাড়াই শ্রীলঙ্কার পরিবহন ও ভূমি ব্যবস্থাপনা খাতের আধুনিকায়নে সহায়তার জন্য ৪৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদানের একটি চুক্তির মাধ্যমে নিজস্ব মিলেনিয়াম চ্যালেঞ্জ কর্পোরেশন (এমসিসি) দিয়ে চীনা বিনিয়োগ প্যাকেজগুলো হটানোর চেষ্টা করেছিল। ওয়াশিংটন ২০১৬ সালের ডিসেম্বর থেকে শ্রীলঙ্কার জন্য এমসিসি কমপ্যাক্ট অনুদানটি পাস করার চেষ্টা করছে। পরে রাষ্ট্রপতি সিরিসেনার সরকারের সময় ও আরো পরে রাজাপাকাসে প্রশাসন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে ২০১৯ সালের এপ্রিল সংসদীয় অনুমোদন পায় এটি।।

মন্ত্রিপরিষদের মুখপাত্র বান্দুলা গুণাবর্ধনে এক সংবাদ সম্মেলনের সময় বিতর্কিত এমসিসি সম্পর্কে অবহিত করেন যখন তিনি স্ট্যাটাস অব ফোর্সেস চুক্তির (এসওএফএ) স্বাক্ষরের বিষয়টিও প্রকাশ করেছিলেন। শ্রীলঙ্কা সরকার বিতর্কিত এসওএফএ নামক প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে, যা বিশ্বে মর্কিন মিত্র হিসেবে পরিচিত ফিলিপিন্স বাতিল করেছে। এসওএফএ  এমন একটি ফ্রেমওয়ার্ক স্থাপন করে যার মাধ্যমে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যরা চুক্তিবদ্ধ দেশগুলোতে অপারেশন পরিচালনা করতে পারবে।

প্রথম মার্কিন-লঙ্কা চুক্তি হয় ১৯৯৫ সালে, যেখানে যৌথ অনুশীলন এবং অন্যান্য সরকারি দায়িত্বের জন্য তারা চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল। পরে ২০০৭ সালে তৎকালীন শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা সচিব এবং রাষ্ট্রপতি গোতাবায়া রাজাপাকসা ১০ বছরের জন্য মার্কিন-শ্রীলঙ্কা Acquisition and Cross Services Agreement(এসিএসএ) চুক্তি করেন। ভারতীয় বংশদ্ভুত আমেরিকান কূটনীতিক অতুল কেশাপ, যিনি ১৫ জুলাই ২০১৮ এ শ্রীলঙ্কা এবং মালদ্বীপে তার সফল রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব সম্পন্ন করেছেন, তিনি এসিএসএ এবং এসওএফএ গোপন আলোচনার তদারকি করেন। আগের এসিএসএ (২০০৭-২০১৭) অ-প্রাণঘাতী পণ্য সরবরাহের বিনিময় সহজতর করে তবে নতুন এসিএসএ (২০১৭) এর শর্তগুলো রাখা হয়েছে অস্পষ্ট। 

সংবাদে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের নতুন মার্কিন-শ্রীলঙ্কা এসিএসএ সংসদীয় অনুমোদন এবং জনসমক্ষে আলোচনা ছাড়াই তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মাইথ্রিপাল সিরিসেনার সরকারের সময় স্বতন্ত্রভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এসওএফএ চুক্তি সিরিসেনার শাসনামলের শেষ দিনগুলো না রাজাপাকসের আমলে  গোপনে অনুমোদিত হয়েছিল তাও নিশ্চিত নয়। এসওএফএ এবং এসিএসএ স্বাক্ষর অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে ও কাকপক্ষীকে না জানিয়ে সম্পন্ন হয়েছে, যা ব্যাপক সমালোচনা এবং জল্পনা-কল্পনা তৈরি করেছিল।

এসওএফএ চুক্তি যা ২০১৭ সালে কার্যকর হয়েছিল, ৮৩ পৃষ্ঠার এসিএসএ'তে চুক্তি স্বাক্ষর করে ইট সম্পন্ন হয়। আমেরিকান রাষ্ট্রদূত অ্যালাইনা টেপলিটজের বিবৃতি অনুযায়ী, এই চুক্তির ফলে মার্কিন বাহিনীকে সম্মিলিত সামরিক অপারেশন কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেওয়া হবে। তার মতে এই ধরনের পদক্ষেপগুলো দুই দেশের সুরক্ষা জোরদার করার পাশাপাশি অন্যান্য খাতেও সম্পর্ক জোরদার করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যদিও তিনি অন্যান্য খাত সম্পর্কে কিছুই জানাননি। 

ইউএস-শ্রীলঙ্কা এসওএফএ চুক্তির মধ্যে কয়েকটি স্পষ্ট কিন্তু বিতর্কিত বৈশিষ্ট্য হচ্ছে:

শ্রীলঙ্কার সার্বভৌম অঞ্চলে মার্কিন স্থল ও নৌ যানের বাধাহীন চলাচলের স্বাধীনতা। 

মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগে কাজ করা কোনো ব্যক্তিকে শ্রীলঙ্কান আইনের আওতায় আনা যাবে না এবং কোন সুনির্দিষ্ট এলাকায় যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা প্রদান করা যাবে না। তারা শ্রীলঙ্কায় তাদের প্রকৃত পদবি এবং ভূমিকা প্রকাশ না করে দেশটিতে প্রবেশ করতে এবং ছেড়ে যেতে পারবে।

শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষ কোনো মার্কিন জাহাজ / বিমান / যানবাহন অননুমোদিত উপকরণ বহনের সঙ্গে জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখতে পারবে না।  

এই চুক্তি অনুযায়ী মার্কিনিরা কোনো ধরনের অনুসন্ধান, অনুমোদনপত্র, শুল্ক কর, কর বা অন্যান্য বিধিনিষেধ বা মূল্যায়ন বা বোর্ডিং এবং পরিদর্শন থেকে মুক্ত থাকবে। এছাড়া শ্রীলঙ্কার নেভি বা কোস্টগার্ডসহ কোনও স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী বা সামরিক কর্তৃপক্ষ শ্রীলঙ্কায় থাকা কোনো মার্কিন যানে স্থানীয় আইন প্রয়োগ করতে পারবে না। 

মার্কিন সামরিক বাহিনী দেশটি জুড়ে টেলিকম ফ্রিকোয়েন্সি চালাতে পারবে, যা অভিযান পরিকল্পনা এবং সমন্বয়ের জন্য ব্যবহৃত হতে পারে।

যেহেতু শ্রীলঙ্কার সশস্ত্র বাহিনী ও সংস্থাগুলোর দৃশ্যমান কোনো অস্তিত্ব সামরিক যোগাযোগে থাকছে না তাই তারা কোনো গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ পরিকল্পনাও করতে পারবে না।  

মার্কিন সরকারের রিয়েল এস্টেট নথিতে প্রবেশাধিকার থাকবে, এমন কি চীন দ্বারা তালিকাভুক্ত রয়েছে সেগুলোতেও।

অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কা এমসিসি প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করেছে। উল্লেখ্য, এই নিশ্ছিদ্র প্রকল্পের প্রস্তাব এমসিসি বোর্ডের কাছে  ২০১৭ সালের নভেম্বরে  জমা দেওয়া হয়েছিল এবং বিপর্যয়কর ইস্টার সানডের বোমা বিস্ফোরণের মাত্র কয়েক দিন পরে,২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে এমসিসি বোর্ড দ্বারা অনুমোদিত হয়। আগ্রহোদ্দীপক বিষয় হলো, এমসিসির স্বচ্ছতার জন্য জনসাধারণের দাবি অগ্রাহ্য করে গোপনে আলোচনা করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মাত্র ১১ দিন আগে এমসিসির একটি খসড়া সর্বশেষে ২০২০ সালের ১৫ নভেম্বর শ্রীলঙ্কার অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। যত্নের সঙ্গে চুক্তিগুলো পড়লে ধরা পড়ে যে বরাদ্দকৃত অর্থ পর্যায়ক্রমে ব্যয় করতে হবে এবং এমসিসি কেবল ৫ বছরের জন্য নয় তবে অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, এমসিসি অনুদান অবকাঠামো ও পরিবহনের সার্বিক উন্নতির সঙ্গেসম্পর্কিত। 

যাহোক, এই প্রতিশ্রুতি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে পরিচালনা পর্ষদ শ্রীলঙ্কা সরকারের সঙ্গে ৪৮০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তিটি রদ করে। প্রস্তাবিত ওই অর্থ যা বোর্ড ২০১৯ সালের এপ্রিলে অনুমোদন দিয়েছিল,তা দিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে দারিদ্র্য হ্রাসের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে কলম্বোতে যানজট এবং বায়ু দূষণ হ্রাসসহ বাসে যাতায়াত করে শ্রীলঙ্কার এমন লাখ লাখ জনসাধারণের যাতায়াতও উন্নত করার পরিকল্পনা ছিল। এর দ্বারা কৃষিপণ্য সহজে বাজারে আনতে সহায়তা করার জন্য প্রাদেশিক রাস্তাগুলোকে উন্নত করা এবং ক্ষুদ্র কৃষক ও অন্যান্য জমির মালিকদের সুরক্ষাও প্রদান করা যেত। 

শ্রীলঙ্কার সঙ্গে আমেরিকা তার সশস্ত্র বাহিনীর চুক্তির (এসওএফএ) নবায়নে ব্যর্থ হয়েছে এবং তার ৪৮০ মিলিয়ন ডলারের মিলেনিয়াম চ্যালেঞ্জ কম্প্যাক্ট (এমসিসি) চুক্তি চূড়ান্ত করতে ব্যর্থ হওয়ায় শ্রীলঙ্কার সঙ্গে চীন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধির প্রচেষ্টা সফলভাবে এগিয়ে নিয়েছে। একটি সফল অর্থনৈতিক "আর্ট অব ওয়ার"-এর মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার অভাবনীয় অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অংশীদার হয়ে উঠেছে চীন।

শ্রীলঙ্কা পশ্চিম এবং পূর্ব ভারতীয় মহাসাগরকে সংযুক্ত করে, যা আঞ্চলিক সমুদ্র-শক্তিসমূহের জন্য একটি পছন্দসই সামরিক রসদ সরবরাহ উপযোগী রুট হতে পারে।  এসওএফএ চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে কিনা তা এখনও অনিশ্চিত। তবে লঙ্কান মন্ত্রিসভার এক মুখপাত্র বলেছেন, চুক্তিটি অস্বীকার বা প্রত্যাহার করা হয়নি। চীনকে মোকাবেলায় শ্রীলঙ্কার সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলোর ক্ষেত্রে মার্কিন অবস্থান আরো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে মনে হচ্ছে। এটি শ্রীলঙ্কার জন্য একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বা চীনের মধ্যে একটিকে বেছে নেওয়াকে চূড়ান্ত কঠিন অবস্থার সৃষ্টি করবে।  চীন দীর্ঘ দিন শ্রীলঙ্কার বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে কাজ করছে। এটি এখন দেখার বিষয়, কেমন করে মার্কিন-লঙ্কান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কার্যকর হয়। পর্যবেক্ষকরা মনে করেন ওয়াশিংটন থেকে বন্ধ থাকা এমসিসি এবং এসওএফএ চুক্তির জন্য বড় আর্থিক ও সামরিক ছাড় দেওয়া ছাড়া বেইজিংয়ের সঙ্গে কৌশলগত জোট থেকে শ্রীলঙ্কাকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার জন্য পম্পেওদের মিশন ব্যর্থই হতে থাকবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তাদের অন্য দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সম্পর্ক পরিবর্তন হবে না, যুক্তরাষ্ট্রের মৌলিক কৌশলগত লক্ষ্য এই অঞ্চলে সাধারণভাবে এবং বিশেষত শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব হ্রাস করতে চেষ্টা করা। যদিও এটি মার্কিনিদের জন্য অববশ্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং একট ইস্যু হবে।

দিনবদলবিডি/এইচ/এমআর

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়