বৃহস্পতিবার

২২ এপ্রিল ২০২১


৯ বৈশাখ ১৪২৮,

০৯ রমজান ১৪৪২

দিন বদল বাংলাদেশ

তারা অধিকার চায়

নাসরিন সুলতানা || দিনবদলবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:২৮, ৩ এপ্রিল ২০২১  
তারা অধিকার চায়

আমাদের প্রতিটা ঘরে নারীকে মূল্যায়ন করা শুরু করতে হবে

নারীর মন, শরীর ও স্বপ্নের ওপর পূর্ণ অধিকার ফিরিয়ে আনাই আমরা মনে করি নারীর অধিকার।

নারী মানেই মায়ের জাত। নারী মানেই বোনের জাত। নারী মানেই মেয়ের জাত। নারী মানেই যদি এই খেতাবগুলো তাদের নিতে হয়, তবে মায়ের জাতের সম্মানটা কি সবাই দিতে পারে? নাকি বলেই পার পাওয়ার একটা ছুতো দেখায়।

কাউকে ভালোবাসি বললেই যেমন ভালোবাসা হয় না, তাকে আগলে রাখতে হয়। তেমনি কাউকে খেতাব দিলেই তাকে সম্মান করা হয় না, খেতাবের মর্যাদাও রাখতে হয়।

নারী মানেই আমরা বুঝি, সে ঘরে থাকবে ঘরের কাজ করবে। এটা কিন্তু বর্তমান সমাজে কিছুটা হলেও পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু তাতে কি আমাদের নারীর কদর বেড়েছে?

না, বরং নারীদের এখন আরো কঠিন সময় পার করতে হয়। কারণ বাইরে কাজের অজুহাত দেখিয়ে নারীসমাজকে একটি ভয়ংকর পরিশ্রমের সম্মুখীন হতে হয়। বাড়িতে সন্তান সামলানো থেকে শুরু করে সংসার সামলানো সব কাজ করে তারপর বাহিরে কাজ করতে যাওয়া।

একটু এর ব্যতিক্রম হলেই চাকরি ছেড়ে দাও। চাকরির দরকার কী? বাসায় বসে সংসার সামলাও, তোমার চাকরির দরকার নেই-এই বলে স্বামী নামক মানুষটা অনেক পীড়া দেয়। প্রতিটা স্বামীর কথা বলছি না, তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে।

চাকরি করতে দেওয়াটা তাদের কাছে মনে হয় নারীদের জন্য বিরাট কিছু করে ফেলেছে। বাইরে যাওয়াটাই নারীর স্বাধীনতা মনে করে। আসলে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিত্সার মতো আমাদের স্বাধীনতাও একটা অধিকার, এটা ভাবতে পারে না।

কিছু পরিবারে আছে-শ্বশুর-শাশুড়ি ছেলেকে বিয়ে করাবে, সাংসারিক একটা মেয়ে চায়। ছেলে উচ্ছন্নে যাক, সমস্যা নেই। কিন্তু নিজের মেয়ে যখন বিয়ে দেবে তখন একজন সাংসারিক ছেলে চায়। কারোর থেকে কারোর চাহিদা কম নয়।

মেয়ের বেলায় স্বাধীনতা চায় ঠিকই, কিন্তু ছেলের বউ ঘরে থাকবে সব সময়। এই রকম মনোভাবটার পরিবর্তন প্রয়োজন। অনেকেই নিজেদের ঘরেই নারীর অধিকার কেড়ে নিচ্ছে, তবে কেন নারীর অধিকার চায়? প্রতিটা ঘরে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে, তাহলেই সমাজে নারীর স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিতে পারবে।

নারী দিবস নিয়ে আমরা নানা কবিতা, গল্প, উপন্যাস সৃষ্টি করে ফেলি। নারীর মর্যাদা নিয়ে আমরা কতকিছু করে ফেলি, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না।

কিছুদিন আগেও নারী দিবস গেল ৮ মার্চ। কত সম্মান দেখাল সবাই মিলে। কিন্তু কই, এখন তো তাদের নিয়ে কেউ কোনো কবিতা গল্প উপন্যাস লেখে না? তাদের মর্যাদার কথাও ভাবে না। তাহলে কি নারী দিবস এক দিনের জন্য?

নারী স্বাধীনতা মানে এই নয় যে উচ্ছৃঙ্খলতা। নারীর খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিত্সা, নারীর রোজগার করার স্বাধীনতা ইত্যাদি। আমাদের প্রতিটা ঘরে নারীকে মূল্যায়ন করা শুরু করতে হবে। নারী বলে তাকে হেয় করা ঠিক নয়। অনেকেই কথায় বলে, আরে গরু দিয়ে হাল চাষ না করে ছাগল দিয়ে হাল চাষ করা যায়?

তার মানে কী দাঁড়াল?

ছেলেদের কাজ কি মেয়েদের দিয়ে হয়?

আমাদের এই চিন্তাটা এখনো অনেকের মাথায় থাকে না। মেয়েরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রিত্ব করছেন প্রায় ২৫ বছর হলো। তাছাড়া দেশ চালানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ জায়গা আজ নারীদের দখলে।

আসলে নারীরা প্রতিটা কাজ যে মনোযোগ দিয়ে করতে পারে, পুরুষরা তা পারে না। নারীদের মাথা সব সময় ঠান্ডা থাকে। কোনো কাজের আগে তারা রুটিন করতে পারে পরিপূর্ণভাবে, যা একটা পুরুষ পারে না।

নারীরা সমান অধিকার চায় না। তারা একটু ভালোবাসা চায়, যা পেলে যেকোনো নরককে তারা স্বর্গে পরিণত করতে পারে। তাদের ‘অধিকার দিয়েছি’ বলে বিজ্ঞাপন চায় না। সত্যিই তারা তাদের নিজের অধিকার চায়।

-নারী উদ্যোক্তা

দিনবদলবিডি/জিএ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়