শুক্রবার

১৪ মে ২০২১


১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮,

০১ শাওয়াল ১৪৪২

দিন বদল বাংলাদেশ
Eidul Fitor

করোনাকালে নতুন কিছু শেখা

ফাতিমা তুজ জোহরা || দিনবদলবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:৫৮, ৩ মে ২০২১  
করোনাকালে নতুন কিছু শেখা

করোনাকালে নতুন কিছু শেখা

গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে পুরো পৃথিবী স্থবির হয়ে আছে, থমকে গেছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। খেটে খাওয়া মানুষের জীবন যেমন আটকে গেছে, তেমনি স্থবির হয়ে পড়েছে শিক্ষাব্যবস্থা।

শহরের হাতেগোনা কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে যেতে পারলেও গ্রাম কিংবা মফস্বলের বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পারছে না দুই পক্ষের পর্যাপ্ত সরঞ্জামের অভাবে। কলেজগুলোরও সেই একই অবস্থা।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের পদক্ষেপ নিলেও ফলাফলের গতি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মন্থর। তাই কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ওপর নির্ভর না করে সহশিক্ষা কার্যক্রমে নিজেদের এগিয়ে রাখা হতে পারে সময়োপযোগী ব্যবস্থা।

এই করোনাকালে আমরা শিক্ষার্থীরা যেহেতু সবাই বাসায় বসে আছি, তাই সব বয়সি মানুষের জন্যই এই সময়টা নতুন কিছু শেখার জন্য উপযুক্ত। ‘করোনাকালীন শিক্ষা’ ধারণাটি বয়সভেদে ভিন্ন হতে পারে।

আমাদের বাড়িতে যে ছোট্ট সদস্যরা আছে, আমরা চাইলেই সুব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তাদের এই অফুরন্ত সময়কে আনন্দঘন করে তুলতে পারি। এই বয়সি সদস্যদের প্রতি অভিভাবকদের বেশি যত্নশীল হতে হবে। সন্তানদের জন্য প্রতিদিন ‘কোয়ালিটি টাইম’ বের করা খুব দরকার।

মহামারির এই সময়ে অসংখ্য অনলাইন শপ গড়ে উঠেছে। অভিভাবকেরা চাইলেই ছোটো সদস্যদের জন্য বয়স উপযোগী বই অনলাইনে অর্ডার করতে পারেন। এর ফলে একদিকে যেমন তাদের অবসর সময়টা ভালো কাটবে, তেমনই ছোটো থেকেই একটু একটু করে বই পড়ার অভ্যাসটা গড়ে উঠবে। হাতে তুলে দিতে পারেন রং-তুলি, এতে করে সে নিজের আগ্রহের জায়গাটা আরো ভালোভাবে চিনতে শিখবে।

করোনাকালীন তরুণদের অসংখ্য বিষয় শেখার সুযোগ রয়েছে। অনলাইনে অসংখ্য রকমের কোর্স রয়েছে, যেখানে বিনা মূল্যে অথবা নামমাত্র খরচে বিভিন্ন জিনিস শেখানো হয়। নিজের পছন্দের জায়গাটা খুঁজে বের করে যে কেউ চাইলেই পারদর্শীদের কাছ থেকে ঘরে বসেই তা শিখে নিতে পারে। গান, আবৃত্তি, ডিজিটাল পেইন্টিং, ইলাস্ট্রেশন, পাওয়ার পয়েন্ট ইত্যাদি কাজ আজকাল ঘরে বসেই শেখা সম্ভব।

বিনা মূল্যে যেকোনো বইয়ের পিডিএফ ডাউনলোড করে পড়ে নেওয়া যেতে পারে। ইংলিশ স্পিকিং কোর্সটাও করে ফেলা যায় এ সময়। এই অলস সময়টাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আসক্তি কাটিয়ে, সময়টাকে কাজে লাগানো যেতে পারে

করোনাকালীন শিক্ষা যে কেবল শিশু আর তরুণ প্রজন্মের জন্য তা কিন্তু নয়। পরিবারের বয়স্ক সদস্যরাও নতুন কিছু শিখে তাদের অলস সময়টাকে কাজে লাগাতে পারেন।

মা যদি রান্না করতে ভালোবাসেন, তাকে অনলাইনে রান্নার কোর্সে ভর্তি করে দিতে পারেন। ইদানীং অনলাইনে বিভিন্ন কুইজিনের রান্না, বেকিং ক্লাস করানো হয়। বাবাকে তার পছন্দের লেখক বা পছন্দসই বিষয়ে লেখা বই সংগ্রহ করে দিতে পারেন। বাবা-মাকে ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবস্থাও করে দেওয়া যেতে পারে।

পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যদের জন্য এই সময়টা বেশ কঠিন, এই করোনায় তারাই সব থেকে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। এজন্য এখন তাদের দিকে হাত বাড়িয়ে দেওয়াটা দরকার। যেহেতু এই বয়সিদের ধর্মীয় বিষয়াদির প্রতি আগ্রহ বেশি থাকে, তাই তাদের ধর্মীয় বইগুলো সংগ্রহ করে দেওয়া যেতে পারে।

ইদানীং ধর্মীয় শিক্ষাসংক্রান্ত অনেক অনলাইন কোর্সও রয়েছে। তারা যদি শিখতে চায় তাহলে তাদের এ সব কোর্সে ভর্তি করে দেওয়া যেতে পারে। যেহেতু করোনার অবরুদ্ধতায় বারবার আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, সেহেতু নতুন কিছু শেখা নিঃসন্দেহে আমাদের মনকে প্রশান্তি দেবে।

-শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

দিনবদলবিডি/জিএ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়