শনিবার

২৪ অক্টোবর ২০২০


৯ কার্তিক ১৪২৭,

০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

দিন বদল বাংলাদেশ

চীনের কাউন্টারে যুক্তরাষ্ট্রের বেল্ট এক্ট এবং এফটিএ?

নিউজ ডেস্ক || দিনবদল.কম

প্রকাশিত: ২১:২৮, ১৬ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ২১:৩০, ১৬ অক্টোবর ২০২০
চীনের কাউন্টারে যুক্তরাষ্ট্রের বেল্ট এক্ট এবং এফটিএ?

ছবি: সংগৃহীত

জিএসপি ছিল পিছিয়ে পড়া দেশগুলিকে বিশেষ সুবিধা দেয়া। একটি বিষয় প্রিয় ডেফ্রেসবাসী সব সময় মনে রাখবেন বিশ্ব শাসন এবং সম্মান আদায়ে সবথেকে বেশি যে জিনিসটি দুই যুগ আগে দরকার ছিল সেটি হল 'ভয়'।

হ্যা। সামরিক শক্তি বৃদ্ধি, হামলার হুমকি এগুলা দিয়ে প্রভাব টিকিয়ে রাখার পায়তাড়া করত বিশ্ব মোড়লরা।

সময়ের সাথে এই 'ভয়' এর প্রভাব কমে আরেকটু গুরুত্বপূর্ণ জিনিস আবির্ভূত হয়েছে। সেটা হল টাকা।

আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশের সাথে ধমকের সুরে কথা বলা বিশ্ব ব্যাংক এখন নরম সুরে কথা বলে।

সময়ের সাথে বাংলাদেশের এই পরিবর্তনে বাংলাদেশ পাশে পেয়েছে দুটি দেশকে। এক হল জাপান। যারা অনেকটা নিঃস্বার্থ ভাবে আমাদের পাশে ছিল। অন্যটি হল চীন যারা বে অব বেঙ্গলে প্রভাব বিস্তারে বাংলাদেশকে বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভে যুক্ত করে। অবকাঠামোতে প্রচুর বিনিয়োগ করে এদেশের অবস্থান পরিবর্তন করতে সাহায্য করে।

আধুনিক বিশ্ব ব্যাবস্থায় অর্থের গরমে, অর্থনীতির গরমে চীনের কাছে আমেরিকা বেশ অসহায়। বিশ্বের কাঁচামাল এখন চীন থেকেই আসে। এত কম মূল্যে পণ্য দিয়ে আমেরিকার বৃহৎ কোম্পানিগুলোর অস্তিত্ব সংকট সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। আর অর্থনৈতিক স্নায়ুযুদ্ধের মজার ব্যাপার হল এতে সামরিক হামলা করে বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা লাগে না। অথচ ভয় দেখিয়ে যতটা প্রভাব সৃষ্টি করা যায় অর্থনৈতিক ভাবে আরো বেশি প্রভাব সৃষ্টি করা যায়।

সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সফরে মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন বাইগান বাংলাদেশ সফর করেছেন। তার মেসেজ গুলি পরিস্কার-

১। বাংলাদেশ আমেরিকার ইন্দো প্যাসিফিক স্ট্রাটেজির ক্রিটিকাল মেম্বার হিসাবে উল্লেখ করেছে আমেরিকা।


২। চীনের বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভ এর কাউন্টার হিসাবে আমেরিকা তাদের নিজস্ব অর্থনৈতিক প্রভাব ফিরে পেতে বেল্ট এক্ট করতে যাচ্ছে। মজার ব্যাপার হল আমেরিকা বুঝতে পেরেছে আফগানিস্তান, ইরাকে অযাচিত যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায় মেতে আমেরিকার ট্রিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। হারিয়েছে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রভাব। আর আমেরিকার সেই প্রভাব এখন চীনের দখলে। সবশেষে তারা বেল্ট এক্টের অধীনেও বাংলাদেশকে চাচ্ছে।


৩। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল বাংলাদেশকে দাম না দেয়া আমেরিকা এখন এতটায় মরিয়া যে Free Trade Agreement (FTA) করার জন্য বাংলাদেশকে প্রস্তাব দিয়েছে। এটা কল্পনা করাও কঠিন।


আপনারা অবশ্যই দেখেছেন বিগত কয়েক বছর ধরে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশকে বেশ তেলের উপর রেখেছে। যেখানে আগে নর্ম ছিল তারা এদেশে লর্ড স্টাইলে চলত। আর এখন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট বলেছেন যে এদেশে বিনিয়োগ না বাড়ালে কিছুই পাবেন না তারা। যেই আমেরিকা একসময় রিজেক্ট করেছিল এফ-১৬ বিক্রি করবে না, তারা দেড় যুগ পর এসে আমাদের আগ বাড়িয়ে বলতেছে তাদের কাছ থেকে অস্ত্র কিনতে।

তবে যাই হোক, আমাদের এখন অর্থনীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া উচিত। আর এক্ষেত্রে অবশ্যই আমেরিকার অফার গ্রহণ করে আমেরিকার সাথে এফটিএ চুক্তি করা উচিত। প্রশ্ন আসতে পারে কেন?

১। জিএসপি এর মেয়াদ শেষ ডিসেম্বর মাসে। আমাদেরকে বাণিজ্য সুবিধা পেতে এফটিএ করার বিকল্প নেই।

২। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ বাণিজ্যিক সম্পর্ক এমন যে আমাদের প্রধান রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্র। তাদের দেশ থেকে আমরা খুব বেশি আমদানি করিনা। কিন্তু আমাদের রপ্তানির বিশাল সুযোগ সৃষ্টি হবে যদি শুল্ক বাধা না থাকে। এমনকি আমরা ভিয়েতনামের মত প্রতিযোগী দেশের সাথে প্রতিযোগীতা করার সামর্থ্য পাব।

৩। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এফটিএ করলে ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্যদেশের কাছেও একটা বার্তা পৌছাবে। এতে আমাদের রপ্তানির সবথেকে বড় গুচ্ছ বাজার ইউরোপিয় ইউনিয়নের সাথেও এফটিএ করতে পারব। আসিয়ানের সাথেও এফটিএ করা সহজ হবে। এতে দ্রুত রপ্তানি বৃদ্ধি পেতে থাকবে।


চীন বাংলাদেশকে ৮২৫৬ টি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে। হয়ত বাংলাদেশে চীনের এই উপস্থিতি আমেরিকাকে বাধ্য করেছে এফটিএ করার প্রস্তাব দেয়ার ক্ষেত্রে। চীন এত বেশি পণ্যে সুবিধা দিলেও চীন কিন্তু আমাদের প্রধান আমদানি অংশীদার। হয়ত এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে রপ্তানি কিছুটা বাড়বে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র আমাদের রপ্তানি অংশীদার হওয়ায় সেখানে আরো দ্রুত আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠিত বাজার আরো শক্ত অবস্থানে নিতে সক্ষম হব।

আমি চাই আগামী ১০ বছর পর বাংলাদেশ এমন পর্যায়ে যাক যেখানে বিশ্ব আমাদের সম্মান করবে। যেমনটা এখন শুরু হয়েছে। তবে এর আগে আমাদের মানসিকতাও উন্নত করতে হবে। নিজেকে, নিজ দেশকে আগে আমরা সম্মান করতে শিখি। ডিফেন্ড করতে শিখি। আমাদের মানসিকতা যেন নিচু না হয়। ইনশাআল্লাহ আমরা এগিয়ে যাব।

লিখেছেন: ওয়াসি মাহিন

(লেখাটি ফেইসবুক টাইমলাইন থেকে নেয়া)

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়