বুধবার

২৬ জানুয়ারি ২০২২


১৩ মাঘ ১৪২৮,

২০ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

দিন বদল বাংলাদেশ

সন্তানকে ননীর পুতুল বানাতে চাই না

দিনবদলবিডি ডেস্ক || দিনবদলবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৪২, ১২ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ২১:৪৬, ১২ জানুয়ারি ২০২২
সন্তানকে ননীর পুতুল বানাতে চাই না

ফাইল ছবি

আজকের সকালটা একটু অন্যরকম। ক'দিন থেকেই শীত আসি আসি করছে। তাপমাত্রা ৭-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকছে। এ অবস্থায় সকাল থেকেই বৃষ্টি। বৃষ্টি মাথায় নিয়ে কাজে রওনা দিচ্ছি সবাই। বাচ্চারাও স্কুলে যাবে। ফুটো ছাতা নিয়ে সাবওয়ে মানে উডহ্যাভেন ব্লুভার্ড ট্রেন স্টেশনে পোঁছানোর পর চোখে পড়লো দক্ষিণের আকাশে কালো মেঘ, সেই সাথে ঝুম বৃষ্টি।

এই বৃষ্টির মধ্যে বিনা ছাতায় স্কুলের উদ্দেশে বেরিয়ে গেছে বড় ছেলে শীর্ষ। মেঝ ছেলে দিমিত্রিও স্কুলে যাবে, একা এবং হেঁটে। দিমিত্রি'র স্কুলে যাওয়ার কথা মনে হতেই চোখের সামনে ভেসে উঠলো ক্লাস থ্রি কিংবা ফোর-এ থাকা অবস্থায় ঠিক এমন ঝুম বৃষ্টি মাথায় নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা। আমি যেতে চাইনি। বাবার হুকুম, যেতে হবে।

অগত্যা রওনা হতেই হলো। আমরা তখন ভৈরববাজারে থাকি। রানীরবাজারের বাসা থেকে রেলওয়ে স্কুলের পথ খুব কাছের নয়। হেঁটেই যেতাম। সেদিনও হেঁটে রওনা হয়েছিলাম। মাঝপথে গুদারাঘাটের কাছে রেললাইন ধরে হাঁটতে হাঁটতে লক্ষ করলাম কাঠের বাটওয়ালা মোটা কালো কাপড়ের নতুন ছাতা ভেদ করে পানি পড়ছে। প্যান্ট, জামা, জুতো ভিজে একাকার।

ভীষণ কান্না পেল। চারিদিকে কেউ নেই। বৃষ্টির ধারায় দূরের কিছু দেখা যাচ্ছে না। সেই সাথে চোখের জল দৃষ্টিকে আরো ঝাপসা করে তুললো। শব্দ করেই কেঁদেছিলাম। কিন্তু সেই বজ্রপাতমুখর বৃষ্টিতে কান্নার শব্দ সহজেই মিইয়ে গেলো। দিমিত্রি'র বয়স এখন ১০, আমার বয়স তখন আরো কম ছিলো। আজ মনে হচ্ছে দিমিত্রিকেও আমি একই অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য পাঠাচ্ছি। আজ হয়তো স্কুলে না গেলেও হতো কিন্তু পরক্ষণেই মনে হলো, এই অভিজ্ঞতাটুকুরও দরকার আছে। সন্তানকে ননীর পুতুল বানিয়ে লাভ নেই। পৃথিবীর চড়াই উৎরাই পেরিয়ে তো ওদেরকে একাই চলতে হবে।

সেদিন স্কুলে গিয়ে দেখেছিলাম, পুরো ক্লাস ফাঁকা। পুরো স্কুলে আমিসহ ৪/৫ জন ছাত্র এসেছিলো, ২/৩জন টিচারও এসেছিলেন। স্কুলব্যাগ খুলে দেখি, বই খাতাও ভিজে গেছে। ব্যাগ থেকে ওগুলোকে বের করে বেঞ্চের ওপর মেলে দিলাম শুকানোর জন্য। ভেজা শার্ট চিপেও বেঞ্চের পাশে ঝুলিয়ে দিলাম যদি কিছুটা শুকায়।

কিছুক্ষণ পর আকাশের অবস্থা বুঝে স্কুল ছুটি ঘোষণা করা হয়। ভেজা বইপত্র কাপড় চোপর নিয়ে বাসায় ফিরতে ফিরতে বাবার ওপর রাগ হচ্ছিলো ঠিকই কিন্তু বোঝার বয়স হতে হতে সেই রাগ কবেই উবে গেছে জানিনা। বরং এইসব ঘটনা আমাদের শৈশব-কৈশোরকে সমৃদ্ধ করেছে ভেবে নিজেকে ভাগ্যবান মনে হয়। দিমিত্রিও আজ আমার ওপর রাগ করলে করতে পারে, কিন্তু একদিন হয়তো ওরাও একই কারণে সব ভুলে যাবে।

ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

দিনবদলবিডি/আরকে

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়