বৃহস্পতিবার

০৩ ডিসেম্বর ২০২০


১৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৭,

১৭ রবিউস সানি ১৪৪২

দিন বদল বাংলাদেশ

মিয়ানমার নিয়ে চীন-মার্কিন বিরোধ 

আহমেদ নূর হোসাইন || দিনবদলবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:২২, ১৮ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ২২:২৩, ১৮ নভেম্বর ২০২০
মিয়ানমার নিয়ে চীন-মার্কিন বিরোধ 

মিয়ানমারে তীব্র চীন-মার্কিন শীতল যুদ্ধ

বেইজিংয়ের ভূ-রাজনৈতিক পরিকল্পনায় মিয়ানমারের সুনির্দিষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। চীনকে ভারত মহাসাগরে প্রবেশের সুযোগ করে দেয় মিয়ানমার, যে কি না ওই অঞ্চলে ক্রমশ শক্তিধর হতে থাকা ভারতকে মোকাবেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র এবং যার সঙ্গে তাদের অভিন্ন সীমান্ত রয়েছে।    
মধ্যপ্রাচ্য থেকে চীনের তেল আমদানির প্রধান পথও ভারত মহাসাগর। এজন্য বর্তমানে বেইজিং বিকল্প হিসেবে স্থলপথে মিয়ানমারের ভেতর দিয়ে দক্ষিণ চীনের ইনান প্রদেশের কুনমিং পর্যন্ত পাইপলাইন ব্যবহার করছে (কিয়াইকফু পাইপলাইন যথাক্রমে ২০১৩ তেল ও  ২০১৭ সাল থেকে গ্যাস পাম্প করা শুরু করেছে)। এর দ্বারা বেইজিং দক্ষিণ চীন সাগর ও মালাক্কা প্রণালীকে এড়িয়ে তেল গ্যাস আমাদানি করতে পারছে । এছাড়া, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের নেতা  অং সান সু চি তার বেইজিং সফরকালে শিং জিনপিং এর সঙ্গে দেশটির কুয়াকফু থেকে চীনের কুনমিং পর্যন্ত অর্থনৈতিক করিডোর নির্মাণের বিষয়ে একমত হন। চীনা কমিউনিস্ট পার্টি ও সে দেশের ব্যবসায়ীদের আনুকূল্য লাভের তৎপর ছিলেন। নিজের পিছিয়ে পড়া অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বেগবান করতে ও অতি আকাঙ্ক্ষিত অবকাঠামোগত উন্নয়নে চীনের সহায়তা মিয়ানমারের খুব প্রয়োজন। 

সম্প্রতি  মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লেয়িং দেশটিতে চীনা বিনিয়োগ ও কৌশলগত ভূমিকার গুরুত্বের কথা স্মরণ করেন। একই সঙ্গে সমালোচনার মুখেও রোহিঙ্গা ইস্যুতে বেইজিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ সহায়তার কথাও বলেন তিনি। ২০১৯ সালের এপ্রিলে এই উচ্চ পদস্থ জেনারেল বেইজিং সফরে তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিবাচক অবস্থার প্রশংসা করেন। সফরে মিন অং হ্লেইং আরও বলেছিলেন যে মিয়ানমার সেনাবাহিনী চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোডকে সমর্থন করবে। চীনা রাষ্ট্র প্রধান ২০২০ সালের জানুয়ারির ১৭-১৮ তারিখ মিয়ানমার সফর করেন। যা ছিল ২০০১ সালের জিয়াং জেমিনের পর প্রথম কোনো চীন রাষ্ট্র প্রধানের মিয়ানমার সফর। এ সফরই মিয়ানমারে চীনের গভীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলীর পুণর্জাগরণ ঘটায়। সেবার মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে চীনা রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং ও মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি ৩৩ টি চুক্তি সই করেন, যার মধ্যে রয়েছে অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য, উৎপাদন ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বিষয়ক চুক্তি। 

অন্যদিকে, ২০১১ সাল থেকে মিয়ানমারে বহুদলের অংশগ্রহণে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরু হবার পর থেকে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ উন্নয়ন হয়েছে (যা বেইজিংয়ের জন্য ছিল বড় ধরনের হানিকর)। ২০১২ সালে ওয়াশিংটন ২২ বছর পর আমেরিকায় তাদের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে ডেরেক মিশেলের নাম ঘোষণা করে। নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রাক্কালে যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশের মধ্যে সামরিক সম্পর্ক পুনস্থাপনের ব্যাপারেও আগ্রহ প্রকাশ করে। এসময় অং সান সু চি ঘন-ঘন আমেরিকান অ্যাম্বাসিতে যাতায়াত করে মিশেলের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন। ঠিক এই এসময়টায় ‘এশিয়ার শেষ সীমান্ত’ ইয়াঙ্গুনে  মাইক্রোসফ্ট, গুগল এবং পেপসির নির্বাহীরা বিনিয়োগ সুযোগের সন্ধানে উড়ে এসেছিলেন। কিন্তু বর্তমান সময়ে দেশটিতে পশ্চিমা প্রভাব সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে বলে মনে হয়। যাহোক, এখনও এইখানটায় যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকৌশলের সঙ্গে সঙ্গে আর্থ-রাজনৈতিক ক্ষমতা অবগুণ্ঠিত রয়েছে, যা প্রজ্ঞার সঙ্গে কাজে লাগালে সুফল বয়ে আনতে পারে। স্মর্তব্য, ২০১৮ সালে অং সান সু চির বাসভবনের উল্টোদিকে ঝকঝকে নতুন আমেরিকান সেন্টার চালু করেছে ওয়াশিংটন।


মিয়ানমারে দ্বন্দ্বের প্রবণতা

দক্ষিণ চীন সাগরসহ মিয়ানমার ও এশিয়ার অন্যান্য দেশে আমেরিকা ও চীন আগ্রাসী ও অনৈতিক পররাষ্ট্রনীতি চালায় বলে একে অন্যকে অভিযোগ করে থাকে। সম্প্রতি এই দুই পক্ষে কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। মিয়ানমারের আমেরিকান অ্যাম্বাসি প্রধান জর্জ সিবলি অভিযোগ করেছেন, মিয়ানমারের মাৎস্য ও খনিজ সম্পদ দখলসহ দেশটির সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে বেইজিং। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুই বিশ্বশক্তি মার্কিন ও চীনা অ্যাম্বাসির শব্দ-যুদ্ধ  মিয়ানমারে দুইপক্ষের তীব্র বিরোধ স্পষ্ট করে তুলেছে। সম্প্রতি একজন মার্কিন কূটনীতিকের ‘আউটরেজিয়াস লিবেল অ্যাগেইন্সট চায়না’শীর্ষক এক নিবন্ধে দাবি করা হছে যে দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের কর্মকাণ্ড এবং হংকংয়ে আক্রমণাত্মক দমন-পীড়ন হচ্ছে মিয়ানমারসহ প্রতিবেশী দেশগুলোকে নতজানু করে রাখার বৃহৎ পরিকল্পনারই অংশ। ওই নিবন্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে যে কাচিন প্রদেশে কলা গাছ লাগানো,খনিজ উত্তোলন ও বনজ সম্পদ আহরণে  প্রশ্নবিদ্ধ বিনিয়োগ ও দুর্নীতি এবং অবকাঠামো প্রকল্প ও বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকায় বিনিয়োগ যা ঋণের পাহাড় তৈরি করছে- এসবই মিয়ানমারের সার্বভৌমত্বকে হুমকির মধ্যে ফেলছে এবং এমন চাপ তৈরি করছে যাতে চীনের কাছে মিয়ানমার অসহায় হয়ে পড়ে। 

মার্কিন কূটনীতিকের এমন অভিযোগের জবাবে চীনা দূতাবাস পাল্টা এক নিবন্ধের মাধ্যমে জানায়, চীন-মিয়ানমার মতবিরোধ তৈরি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নষ্ট করতেই মার্কিনিরা এসব অভিযোগ করছে।  নিবন্ধে অভিযোগ করা হয়, আমেরিকা শুধু চীন-মিয়ারমার সম্পর্ককে 'আঙুর ফল টক' হিসেবেই চিহ্নিত করছে না, একই সঙ্গে তারা মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো থেকে বিশ্বের মনোযোগ সরিয়ে নিয়ে স্বার্থপর রাজনৈতিক ফল লাভের চেষ্টা করছে।  প্রকৃতপক্ষে, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ব্রুনেই, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন এবং মালয়েশিয়াসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসগুলো দক্ষিণ চীন সাগর ইস্যুতে বারবার কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিচ্ছে। 
 
এমন পরিস্থিতিতে আমেরিকার অ্যাম্বাসিগুলো চীনের বিরুদ্ধে প্রচার চালানো শুরু করে, তখন থেকেই মিয়ানমারের চীনা দূতাবাস সবচেয়ে আগ্রাসী হয়ে তা মোকাবেলায় নামে। এ প্রসঙ্গে মিয়ানমার বিশেষজ্ঞ বেরটিল লিনটার বলেন, ‘এটা পরিষ্কার যে মিয়ানমারে নতুন শীতল যুদ্ধ চলছে।’ তিনি আরো জানান, এটা নির্ভর করবে বিষয়টি মিয়ানমার কীভাবে নেয় তার ওপর। এর একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে, মিয়ানমারে বিরাজমান চীন বিরোধী মনোভাবের সর্বাধিক সুবিধাটুকু নিংড়ে নিচ্ছে এখানে। যখন আন্তর্জাতিকভাবে মিয়ানমারের বিপক্ষে রক্তাক্ত দমন-পীড়নের কারণে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে তখন মিয়ানমার সামরিক নেতৃত্বের একমাত্র মিত্র ছিল চীন। এই সমর্থনের বিনিময়ে চীনকে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল  মাইনিং থেকে শুরু করে তেল ও গ্যাস উত্তোলনের। এর ফলে  আমেরিকা মিয়ানমারের পরিবেশগত ক্ষতির দিকটি ফলাও করে প্রচার করছে। তারা অভিযোগ করে, স্থানীয়দের ভাগ্যের কথা চিন্তা না করেই প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস করছে চীন। 

আরেকটি সম্ভাব্য কারণ, মিয়ানমারের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব। কারণ মিয়ানমারের মধ্য দিয়ে বঙ্গোপসাগর হয়ে ভারত মহাসাগরে সরাসরি প্রবেশ করা যায় এবং এই দেশটির অবস্থান ভৌগলিকভাবে চীন-ভারত সীমানায়। ইয়ানবির শিল্পাঞ্চলসহ গভীর সমুদ্রে চীনের উপস্থিতি এই অঞ্চলে মার্কিন  সামুদ্রিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে উদ্বেগের বিষয় হবে। মিয়ানমারের অর্থনীতি ও রাজনীতিতে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবজনিত কারণেই সম্ভবত মিয়ানমার বারবার আমেরিকার বিভিন্ন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আসছে। মাল্টি-বিলিয়ন ডলার বিআরআই প্রকল্পের পাশাপাশি চীন-মিয়ানমার সীমান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সক্রিয় জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং সরকারের মধ্যে শান্তি প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতা ভূমিকা পালন করে আসছে চীন।  অর্থনৈতিকভাবে  মিয়ানমারের জন্য বৈদেশিক বিনিয়োগের একটি প্রধান উৎস হচ্ছে চীন। কারণ রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা সমস্যার ফলে বহু পশ্চিমা বিনিয়োগকারী মানবিক কারণে দেশটিতে বিনিয়োগ এড়িয়ে চলে। মিয়ানমারে অবস্থিত চীনা দূতাবাস মার্কিনিদের সমালোচনা করে বলেছে, ‘তারা (আমেরিকা) একটি পিঁপড়া হয়ে একটি বিশাল গাছকে নাড়াতে চেষ্টা করছে।’ এই বিবৃতিতে থেকে বোঝা যায়, চীন মিয়ানমারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে এবং চীন-মিয়ানমার সহযোগিতার একটি নতুন অধ্যায় তৈরি করবে।

চীন-মার্কিন দ্বন্দ্বে মিয়ানমারের অবস্থান

চীন-মার্কিন বিরোধের জেরে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি শক্তিশালী দেশগুলিকে সুসম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, মিয়ানমার ১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে নিরপেক্ষ পররাষ্ট্র নীতি মেনে চলছে এবং প্রতেবেশী ও দূরের দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে নিজেদের পারস্পরিক সার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক রাখবে। মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি ইউ সো হানের বলেছেন, ‘মিয়ানমার বৃহৎ শক্তিগুলোর মধ্যে সুসম্পর্ক দেখতে চায়। যা মিয়ানমারসহ আসিয়ানভুক্ত দেশসমূহের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে।’ অন্যদিকে ইনস্টিটিউট অব সিকিউরিটি অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের পক্ষে মি. থিটিনান বলেছেন,  ইউএস-চায়না বিরোধ মিয়ানমারকে কিছুটা লাভবান করবে। মিয়ানমার সরকার নিরপেক্ষ বৈদেশিক নীতি বজায় রাখার পক্ষে জোর দিয়েছিল, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা সংকটের সময় পশ্চিমারা মিয়ানমারের সমালোচনা করলেও চীন তাদের পক্ষে দাঁড়ায়। যদিও তখন ওবামা প্রশাসনের সঙ্গে মিয়ানমারের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজমান ছিল।

তবে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় যখন ২০১৬ সালে এনএলডি ক্ষমতায় আসে ও রোহিঙ্গা ইস্যু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তোলপাড় তোলে । ওই সময়টিতে যখন (রোহিঙ্গা সুরক্ষায়) যুক্তরাষ্ট্র বারংবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা কাউন্সিলকে প্রস্তাব পাসে জোর তৎপরতা চালাচ্ছিল তখন চীন মিয়ানমারকে সমর্থন দেয় এবং দেশটিতে বিশাল বিনিয়োগ করে।  মিয়ানমারে কর্মরত একজন সুইডিশ সাংবাদিক এবং পর্যবেক্ষক লিন্টনার এ প্রসঙ্গে বিশ্বাস করেন, দক্ষিণ চীন সাগর এবং হংকংয়ের সমস্যার প্রেক্ষাপট বিবেচনায় মার্কিনিরা রোহিঙ্গা ইস্যু থেকে অনেক দূরে গিয়ে মার্কিন-মিয়ানমার সম্পর্ককে দেখছে। তিনি আরো বলেন, আমার কাছে মনে হচ্ছে যে পশ্চিমারা বুঝতে পারবে রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীনা সমর্থনের কারণে মিয়ানমার তাদের দিক থেকে  ফিরিয়ে নিয়েছিল।

অবশেষে বলা যায়, শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অং সান সু চির নেতৃত্বে মিয়ানমার দুই দেশের (আমেরিকা-চীন) জন্য ক্রমশ রণক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে এবং যার ফলে পশ্চিমারা রোহিঙ্গা মুসলিম সংখ্যালঘুদের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি অনেকাংশেই আন্তরিকতাহীন করে ফেলছে। লেখক ও ইতিহাসবিদ তান মিয়ান্ট-য়ু এর পর্যবেক্ষণ হলো, মিয়ানমারের অর্থনৈতিক মূল্য কম থাকলেও এর ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব এড়ানো সম্ভব নয়, কারণ মিয়ানমার বঙ্গোপসাগর থেকে চীনের ভূ-সীমা পর্যন্ত পৌঁছার সেতু হিসেবে রয়েছে। তিনি আরো বলেন: ১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে মিয়ানমার সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখার নীতি মেনে আসলেও পরাশক্তিগুলোর ক্রমবর্ধমান দ্বন্দ্বের ফলে ভবিষ্যতে তারা কী করবে তা পরিষ্কার নয়। চীনের বিশাল শিল্প বিপ্লব এরই মধ্যে মিয়ানমারকে রূপান্তর করছে, আমরা যদি বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অবকাঠামোগত প্রকল্পগুলোর দিকে তাকাই তাহলে দুই দেশের মধ্যকার সীমান্ত রেখাটি আর দেখা যাবে না। এটি মনে রাখা জরুরি,  মিয়ানমার বিশ্বের কয়েকটি দেশের একটি যেখানে শীতল যুদ্ধ পরোক্ষভাবে সশস্ত্র সংঘাতের  দিকে যায়, ফলে সামরিক একনায়কতন্ত্র আসে  এবং কয়েক দশক তারা নিজেরাই বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ছিল।
 

দিনবদল বিডি/এইচ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়