বৃহস্পতিবার

০৩ ডিসেম্বর ২০২০


১৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৭,

১৭ রবিউস সানি ১৪৪২

দিন বদল বাংলাদেশ

চিরবৈরী ভারত-চীন

ভারসাম্য ধরে রাখতে মিয়ানমারের কায়দা-কৌশল

আহমেদ নূর হোসাইন || দিনবদলবিডি.কম

প্রকাশিত: ২৩:০৪, ১৯ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৭:১৩, ২০ নভেম্বর ২০২০
ভারসাম্য ধরে রাখতে মিয়ানমারের কায়দা-কৌশল

প্রতীকি চিত্র

যখন হাতিরা লড়াই করে, তখন ঘাসের ক্ষতি হয়, কিন্তু তারা যখন প্রেম করে, তখনও ঘাসই ক্ষতিগ্রস্ত হয়! উক্তিটি সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠাতা লি কুয়ান ইয়ুর।

এ সূত্রে প্রশ্ন করা যায়- দুটি শক্তিশালী রাষ্ট্র যখন পরস্পর দ্বন্দ্ব-সংঘাতে লিপ্ত হয় তখন তাদের প্রতিবেশী ছোট দেশগুলো সর্বদা কঠোর এই প্রশ্নের মুখে থাকে- এতে কি তারা পাটা-পুতোয় ঘষাঘষিতে মরিচের মতো চিরে চ্যাপ্টা হবে নাকি এটা আশীর্বাদ হয়ে দেখা দেবে? 

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে, একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো- একটি ক্ষুদ্র রাষ্ট্র কোন কৌশলে দুর্দান্ত শক্তিধর প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সঙ্গে তার নিজের সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে? বাস্তবিক অর্থে এই প্রশ্নের উত্তর হলো যে- একটি ক্ষুদ্র রাষ্ট্র শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর মুখোমুখি হওয়ার ক্ষেত্রে ভারসাম্য এবং বেড়া দিয়ে রাখার (হেজিং) কৌশল বজায় রাখে। ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকরা আক্রমণ ক্ষমতা এবং আক্রমণাত্মক উদ্দেশ্যগুলোর মূল বিষয়গুলো বিবেচনা করলে ‘ভারসাম্যহীন আইন’ কখনো কখনো গতানুগতিকতায় পরিণত হয়। এখানে ‘হেজিং কৌশল’ একই সঙ্গে নীতিগত বিকল্পগুলোর মিশ্রণ, অর্থনৈতিক ফ্যাক্টর এবং পরোক্ষ ভারসাম্যকে অনুসরণ করে সম্ভাব্য শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর হুমকি বা ঝুঁকির মোকাবিলায় কাজ করে। 

চীনের সঙ্গে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় যে পথে হাঁটছে মিয়ানমার
ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় চীনের সঙ্গে মিয়ানমার যে নীতি অবলম্বন করছে তা মূলত সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার, অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা চ্যালেঞ্জ, ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং আঞ্চলিক সুরক্ষা প্রসঙ্গের মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান নিয়ে গড়ে উঠেছে যা পাউক-ফও (Pauk-Phaw) নামে  পরিচিত। একইসঙ্গে, ভারতের উপস্থিতি এবং সীমান্ত সুরক্ষার বাস্তবতা এবং ভূ-রাজনৈতিক শক্তির ছলাকলাসহ আর্থ-ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংযোগগুলো মিয়ানমারকে চীন-ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখতে নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে।

মুম্বাই-ভিত্তিক থিংক ট্যাঙ্ক গেটওয়ে হাউস এর বিশিষ্ট সভ্য এবং মিয়ানমারে ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত রাজীব ভাটিয়া বলেছেন, দুই বড় প্রতিবেশী ভারত এবং চীনের মাঝে সবসময়ই ভারসাম্য বজায় রাখার প্রবণতা ছিল মিয়ানমারের। সেই একই নীতি অনুসরণ করছেন দেশটির বর্তমান নেত্রী অং সান সুচিও।

নিকটবর্তী কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে মিয়ানমারের এই ঝুঁকিপূর্ণ ভারসাম্য রক্ষা করে চলার কৌশল এখন বহুমাত্রিক রূপ নিয়েছে। ত্রিভূজাকার অর্থনৈতিক সহযোগিতা থেকে শুরু করে ভূ-কৌশলগত প্রভাব বিস্তার পর্যন্ত- সব ক্ষেত্রেই মিয়ান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিবেশীকে তার দেশে ধারণ করছে এবং এর মাধ্যমে ফায়দা লুটে নিচ্ছে। 

মিয়ানমার প্রতিযোগিতামূলক ক্ষেত্র তৈরি করে ভারত-চীন উভয় দেশকেই একই প্রকপ্লে বিনিয়োগে সংযুক্ত করে লাভবান হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, মিয়ানমার কোরিয়ান, চীনা, ভারতীয় এবং সিঙ্গাপুরের একটি যৌথ বিনিয়োগে রাখাইন রাজ্য থেকে চীনের প্রদেশ ইউনান পর্যন্ত গ্যাস পাইপলাইন চালু করেছে । ভারত এখানে এই যুক্তিতে জড়িত রয়েছে যে, প্রতিদ্বন্দ্বীতা কেবল বিরোধী অবস্থান গ্রহণের মাধ্যমে নয় বরং প্রতিযোগিতামূলক সহযোগিতার মাধ্যমেও প্রকাশ পায়।

যদিও এটি বিআরআই-র অংশ হিসাবে বিবেচিত হয় না, এর পাশেই ভারতের আরেকটি  তেল পাইপলাইন রয়েছে যা বিআরআইয়ের অংশ হিসাবে সম্পূর্ণ চীনা অর্থায়নে চলে। সহযোগিতা আর প্রতিযোগিতার মাঝখানের লাগসই ভারসাম্যতার সন্ধানে এই কৌশলে ভারত নিজেকে চীনের দ্বারস্থ করার মাধ্যমে মিয়ানমারে তার ‘পূর্বমুখী হও’ নীতি বাস্তবায়নে সুবিধা পাবে। অন্যদিকে, এই কায়দায় চীন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্বার্থে ভারতকে ছাড় দিয়ে বৃহত্তর স্বার্থ হাসিলের চেষ্টায় অপেক্ষমান। এর ফলে ফাঁকতালে মিয়ানমার যেন জঙ্গলে দুই স্বাপদের লড়াইর মাঝে  নিজেকে রক্ষার বর্ম পেয়ে যাচ্ছে। ভারসাম্য রক্ষার এই খেলাটি এমন যে মিয়ানমার একদিকে চীনকে বন্দর নির্মাণ প্রকল্প দিচ্ছে তো অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে তেল শোধনাগার প্রকল্প চুক্তি করছে।

প্রাকৃতিক কারণেই যেখানে চীন-ভারত সম্পর্কে মিয়ানমারের ভারসাম্য বিরাজমান 
মানচিত্রের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, ভৌগোলিকভাবে মিয়ানামার/বার্মা দেশটি ভারত এবং চীনের মাঝখানে বসে আছে। তবে এটি কখনো ভারত এবং চীনের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত হয়নি। কারণ ভারত, বার্মা এবং চীন এর মধ্যে রয়েছে অনেকগুলো পর্বতশ্রেণী, দুর্গম জঙ্গল আর এমন সব জায়গা যেখানে খুব অল্পদিন আগেও গমনাগমন দুঃসাধ্য ছিল। চীনা ও ভারতীয় অর্থায়নে আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক যৌথ প্রকল্পের আওতায় অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন গত কয়েক বছরে দেশটির ভূ-রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক সুরক্ষার আমূল পরিবর্তন এনেছে । যা তিনটি দেশেই বড় প্রভাব ফেলবে।

এক সম্মেলনে দুই বৃহৎ প্রতিবেশীর দুই নেতা শি জিনপিং ও নরেন্দ্র মোদি                        -ফাইল ফটো

মিয়ানমারকে কখনো কখনো চীনের একটি ‘ডি ফ্যাক্টো চিনা ক্লায়েন্ট স্টেট’ বা ‘ভার্চুয়াল চীনা উপগ্রহ’ হিসেবে দেখা হয়। গত এক দশকে মিয়ানমারের প্রতি ভারতীয় নীতিতেও পরিবর্তন এসেছে- সামরিক জান্তার বিরোধিতা পরিত্যাগ থেকে শুরু করে অন্যান্ন অনেক ব্যাপারেই ভারত হস্তক্ষেপ না করার নীতি  গ্রহণ করেছে। 

এই পরিবর্তনটি মূলত চারটি কারণের হয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা- ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অর্থনৈতিক বিকাশ, আসিয়ানের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ও বিনিয়োগে আগ্রহ বৃদ্ধি, জ্বালানি সুরক্ষার জন্য ভারতের অনুসন্ধান পরিচালনা এবং মিয়ানমারে চীনের প্রভাব বৃদ্ধি।

একে অপরের চাহিদা পূরণ
গত বিশ বছরে, একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে চীন তার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় হতদরিদ্র প্রদেশ হুনানের জন্য একটি বাজার চেয়েছিল এবং বার্মার জ্বালানি শক্তিতেও কর্তৃত্বের পথ পেতে চাইছিল। হুনানে তৈরি পণ্যসম্ভারের জন্য বাজারের দরকার ছিল বেইজিংয়ের। তারা সমস্যার জবাব হিসেবে বার্মাকে পায়। চীনের আমদানী করা তেলের ৮০ শতাংশ আসে মালাক্কা উপকূলের মধ্য দিয়ে। এ কারণে তারা আশঙ্কা করছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ভারত ভবিষ্যতে ফাঁস হিসেবে ব্যবহার করে চীনের তেল আমদানির পথ রুদ্ধ করে দিতে পারে। এই সমস্যার দাওয়াইও আবার ওই বার্মাই। সুতরাং বার্মার ওপরে দিয়ে একটি পথ বা বার্মায় ঢোকার একটি প্রবেশ পথ চাই- এটাই চীনাদের দুটি কৌশলগত মহাপরিকল্পনার অংশ হতে চলেছিল। মিয়ানমার হয়ে বঙ্গোপসাগরে চীনের প্রবেশাধিকার এবং চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ভূমিবেষ্টিত প্রদেশগুলোর জন্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতের প্রয়োজনীয়তা মিয়ানমারকে বেইজিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার করে তোলে। একইসঙ্গে মিয়ানমার বিআরআই এবং ‘স্ট্রিং অব পার্ল’ কৌশলে চীনা আধিপত্য থেকে এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সুবিধা পেতে চাইছিল।

ভারতের ক্ষেত্রে নেহেরুর নীচের বিবৃতিটি আজও প্রাসঙ্গিক বলে মনে হয়। ‘অতীতের মতো, ভবিষ্যতেও তাই, ভারতের জনগণ বার্মার জনগণের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াবে এবং আমাদের ভাগ্য বা দুর্ভাগ্য ভাগ করে নিতে হবে, আমরা তা ভাগ করে নেব।’

এই ক্ষেত্রেই ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যকার রাজনৈতিক ভারসাম্যের পারঙ্গমতা দৃশ্যমান যখন ভারতের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে চীন মিয়ানমারে তার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পুঁজি বিনিয়োগে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।

মিয়ানমারের উদীয়মান রাজনৈতিক রূপান্তরকে ভারত কৌশলগত ও আদর্শিক প্রকাশ হিসাবে দেখছে যা চীনা প্রভাব হ্রাস করার সুযোগ এনে দেবে নয়াদিল্লিকে। অন্যদিকে মিয়ানমার অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও কৌশলগত ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে আরো মজবুত সম্পর্ক তৈরি করতে তৎপর রয়েছে।

প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত কৌশলগত উত্থান এবং অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতাসহ নানা জটিল ইস্যু উভয় দেশকে একই আসনে সমাসীন করেছে। সীমান্তের উভয় পাশে অবস্থিত নাগা সম্প্রদায় এবং নড়বড়ে সীমান্ত সুরক্ষা মিয়ানমার সরকারের পক্ষেও উদ্বেগজনক কারণ ‘নাগাল্যান্ড’ ধারণাটি উভয় দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতার জন্য সম্ভাব্য হুমকি। এক্ষেত্রে ‘পূর্বমুখী চল’ নীতিমালার ওপর ভিত্তি করেই চলমান অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির রূপায়ন সম্ভবপর হবে মিয়ানমারে।

বেইজিংয়ের ওপরে মিয়ানমারের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নির্ভরতার ফলস্বরূপ এটা আশা করা যায় যে নেপিডো সরকার তাদের জন্য ততটুকুই করবে যতটুকু চাওয়া হবে, এবং তা করবে সতর্কতার সঙ্গে। এমনকি চীনের সঙ্গে মিয়ানমারের সম্পর্ক মৌলিকভাবে পরিবর্তিত না হলেও (এবং আমরা এটি প্রত্যাশাও করি না), ভারত-এবং অন্যান্য দেশ যেমন যুক্তরাষ্ট্র এবং জাপান নেপিডোকে আরও বেশি সুবিধা দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে যাতে করে মিয়ানমার এটা বুঝতে পারে যে চীনের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতা হ্রাসে তার আরও বিকল্প উপায় রয়েছে। তদুপরি, রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের প্রতি ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমর্থন সু চি সরকারকে সহায়তা দিয়েছে।

তা ছাড়া, আঞ্চলিক শক্তি হিসাবে ভারত সামরিক সরঞ্জাম ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের জন্য একটি ভাল বিকল্প হতে পারে। এখানেই মিয়ানমারের ভারসাম্যতার যৌক্তিকতা দৃশ্যমান। তবুও সাম্প্রতিক সময়ে সামরিক সরবরাহের উদাহরণ রয়েছে। দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতাটিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অংশ হিসেবে চলতি বছরের নভেম্বরে ভারত মিয়ানমারকে একটি সোভিয়েত যুগের কিলো-শ্রেণির সাবমেরিন দিয়েছে।

ভারত ও মিয়ানমারের ভূ-তাত্ত্বিক সুরক্ষা এবং ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থগুলো রাখাইনে একীভূত করা হয়েছে; যেহেতু ভারত ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতি এবং দক্ষিণ-পূর্ব এবং পূর্ব এশীয় অর্থনীতির সঙ্গে গভীর সংযুক্তিতে মিয়ানমারের প্রবেশদ্বার ব্যবহার করে এই অঞ্চলে চীনা উদ্দেশ্যকে মোকাবেলায় বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছে।

ভবিষ্যতের দিক নির্দেশনাসমূহ
মিয়ানমারের আশেপাশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভূগোলকে কেন্দ্র করে দেশটির ওপর চীন ও ভারতের নিয়ে আসা পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় প্রশ্নটি করেছে: ‘ভারত এবং চীন পরস্পর ঠোকাঠুকি শুরু হলে এর পরিণতি কী হবে?’ এক্ষেত্রে কেউ কেউ সহযোগিতার নতুন সিল্ক রোডের কথা বলছেন, আবার কেউ কেউ নতুন এক মহারণের বিষয়ে সতর্ক করছেন। আমেরিকা যখন মিয়ানমারের জন্য ‘দরজা বন্ধ করে’ দিচ্ছে, তখন তা তাকে চীনের সঙ্গে জোটবদ্ধ হতে বাধ্য করছে, ফলে বেইজিং হয়ে যাচ্ছে ‘সহজলভ্য মিত্র’।

একইভাবে দিল্লিও রাখাইনে অর্থনৈতিক প্রকল্প ও শক্তিশালী অবস্থান পাওয়ার বিনিময়ে মিয়ানমার যখন রোহিঙ্গা ইস্যুতে দুনিয়াজুরে তীব্র সমালোচনার মুখে তখন বিশ্বমতের বিপক্ষে গিয়ে নেপিডোকে রাজনৈতিক সমর্থন দিয়েছিল। ভারত দেখেছে মিয়ানমার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রবেশদ্বার এবং এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে চীনের সঙ্গে প্রভাব বিস্তারের লড়াইয়ে তাকে মুখোমুখি হতে হবে। ভারতের ‘আগে প্রতিবেশী’ এবং ‘পূর্বমুখী চল’ নীতির এমন এক মোড়ে অবস্থান করা দেশ মিয়ানমার তাই স্পষ্টতই দক্ষিণ এশীয় বৃহৎ শক্তিটির কাছে গুরুত্বপূর্ণি একটি অবস্থানে আছে।

ভূ-তাৎপর্যপূর্ণ অবস্থান এবং প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে মিয়ানমার বিশ্ব শক্তিগুলোর ক্ষমতার ভারসাম্যের উত্থান পতনের অব্যাহত রঙ্গমঞ্চ হয়ে থাকবে, যেখানে চীনা এবং ভারতীয় স্বার্থ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে- তা মিয়ানমার রাষ্ট্র তার গণতান্ত্রিক উত্তরণ সম্পন্ন করে সামনের দিকে এগিয়ে যাক বা পূর্ববর্তী বিচ্ছিন্ন ও অবাঞ্ছিত অবস্থানে ফিরে যাক- সেই বিবেচনা কেউ করবে না। 

চীন এবং ভারত প্রকৃতপক্ষে মিয়ানমারে সহাবস্থান করতে পারে, তবে বান্ধবসুলভ আবহে নয়, যখন মিয়ানমার নিজেই উভয় প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছ থেকে সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষার কৌশলের প্রয়োগে তাদের থেকে নানা সুবিধা আদায় করে নিতে ব্যগ্র হয়ে আছে।

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়