ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০২ জুলাই ২০২০,   আষাঢ় ১৮ ১৪২৭,   ১১ জ্বিলকদ ১৪৪১

DinBodolBD
সর্বশেষ:
বৃষ্টির কারণে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের উদ্বোধণী ম্যাচ শুরু হবে সন্ধ্যা ৬.৩০ মিনিটে

বিশ্বকাপ কিছুটা প্রাপ্তির, কিছুটা আক্ষেপের

সেমিফাইনালে যাওয়ার বড় পরিকল্পনা নিয়েই দেশ ছেড়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। দলের পক্ষ থেকে সেমিফাইনাল খেলার কথা ওভাবে জোর দিয়ে না বললেও, সমর্থক বা ক্রিকেট বিশ্লেষকদের এই ভাবনার প্রতি মৌন সমর্থন ছিল প্রায় সব খেলোয়াড়েরই। অধিনায়ক, কোচ কিংবা অন্যান্য খেলোয়াড়দের কথায় সেটি ফুটেও উঠেছে বেশ। আয়ারল্যান্ডে ত্রি-দেশীয় সিরিজ মূলত এই প্রত্যাশাকে শক্ত করেছে টাইগার সমর্থকদের মনে।

দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ-মিশন শুরু করা মাশরাফিবাহিনী পাকিস্তানের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ শেষ করায় প্রত্যাশা আর প্রাপ্তিতে বেশ অসামঞ্জস্য খুঁজে পাচ্ছে এদেশের ক্রিকেটভক্তরা। কিন্তু যদি আপনি একটু গভীরে গিয়ে ভাবেন অথবা পাকিস্তানের ম্যাচটি বাদে বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্সে চোখ বুলিয়ে নেন, তবে এই বিশ্বকাপ অনেক প্রাপ্তিরও বটে। আক্ষেপ যে নেই তাও নয় । দু’টোকে মুল্যায়ন করতে হবে বাস্তবতা ও সামর্থ্যের নিরিখেই।

জয়ের সংখ্যার দিক থেকে যদিও এর আগের দুই বিশ্বকাপেও আমরা তিনটি করে জয় পেয়েছি, সেই হিসেবে এবারও সমান সংখ্যক জয় নিয়েই ফিরেছে টিম বাংলাদেশ। তবে এবারের জয়ের পরিসরটি কিছুটা অনন্য ও ব্যপ্তিসম্পন্ন। নয়টি ম্যাচের মধ্যে আমরা ৫টিতে জয়ের পরিকল্পনা এঁকেছিলাম, যার মধ্যে জয় পাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচটি ছিলো না হয়তো। ছিলো সম্ভবত নিউজিল্যান্ড, শ্রীলংকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সঙ্গে ম্যাচগুলো। হিসেব মেলাতে গেলে প্রত্যাশিত দুইটি জয় আমরা পেয়েছি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আফগানিস্তানের সঙ্গে।

নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচটিতে জয়ের দ্বারপ্রান্তেই ছিলাম। আর শ্রীলংকার সঙ্গে ম্যাচটি বৃষ্টিতে বাতিল হয়েছে। এরমধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে জয়টি নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে হারানো পয়েন্টের ব্যাকআপ হিসেবে ধরে নিলে আমরা মূলত হতাশ হয়েছি পাকিস্তানের সঙ্গে ম্যাচটির পারফরম্যান্সে। অর্থাৎ যদি শ্রীলংকার সঙ্গে ম্যাচটি হতো এবং আমরা যদি জিততাম, পাশাপাশি পাকিস্তানকে হারাতে পারতাম—তাহলে আমাদের পাঁচ জয়ের লক্ষ্য পূরণের পাশাপাশি সেমিফাইনালও হয়তো নিশ্চিত হয়ে যেত। এমন অনেক যদি নিয়েই প্রাপ্তি ও আক্ষেপের বিশ্বকাপ ২০১৯। এর মধ্যে একটু যদি ভেবে দেখা যায়, তবে সাদা চোখেই বোঝা সম্ভব, দল হিসেবে বাংলাদেশ কোন পর্যায়ে আছে।

ক্রিকেটে ভালো দিন এলে হয়তো সবই সম্ভব। তবে আমরা যে অভিজ্ঞ পঞ্চপাণ্ডব কথা বলছি বারবার, তারা আসলে কতটা সামর্থ্য রাখে সেটাও বিবেচনায় রাখা উচিত। তাই আক্ষেপের সমীকরণে ঢোকার আগে আমি ভাবতে চাই- এই পাঁচ অভিজ্ঞদের পারফরম্যান্স কেমন ছিলো।

অধিনায়ক মাশরাফি ব্যতীত বাকি চারজনের জন্যে এই বিশ্বকাপ একেবারেই খারাপ কিছু বলা যাবেনা। তামিম ও মুশফিক নিজেদের জায়গায় ভালো কিছুই করেছেন, পরিসংখ্যানও তাই বলে। ৮ ইনিংসে ২৯.৩৭ গড়ে ২৩৫ রান করেছেন দেশের সেরা ওপেনার তামিম। এর আগে এক বিশ্বকাপে তিনি এতো রান করতে পারেনি।

৮ ইনিংসে ৫২.৪২ গড়ে ৩৬৭ রান করে উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যানদের মধ্যে মুশফিকই সেরা। টাইগারদের মধ্যে বিশ্বকাপের যেকোনো আসরে তার থেকে বেশি রান কেবল সাকিবেরই, তাও চলতি আসরেই। ছয় নম্বরে ব্যাট করা মাহমুদুল্লাহ ৬ ইনিংসে ৪৩.৮ গড়ে করেছেন ২১৯ রান; শেষ দিকে যদিও সুযোগ ছিলো নিজের ভাণ্ডারে আরো কিছু রান যোগ করার। এই তিনজনের ‘খারাপও না, আবার খুব ভালোও না’—এ ধরনের পারফরম্যান্সই মূলত আফসোস বাড়িয়েছে অনেক।

সাকিবকে নিয়ে আলাদা করেই বলতে হয়, এই একজনের লড়াই পুরো বিশ্বের কাছে এদেশের ক্রিকেটের বিজ্ঞাপন পৌঁছে গেছে বেশ ইতিবাচকভাবে। ঈর্ষণীয় একটি টুর্নামেন্ট কাটিয়েছেন তিনি। ৮ ইনিংসে ৮৬.৫৭ গড়ে ৬০৬ রান এবং বল হাতে ৩৬.২৭ গড়ে ১১ উইকেট। দলেরতো বটেই, ব্যাটে-বলে এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের সেরাদের সেরা স্থানে রয়েছেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার।

আবার বলতে হয়, আমাদের সামর্থ্যের জায়গাটায় আমরা কতদূর পারবো- সেটাও বিবেচনায় রাখতে হবে। সাকিব সামর্থ্যের শতভাগ অথবা বেশিই প্রমাণ রাখলেন, যা অন্যরা পারেননি। এরকম আসরে নিজেকে কিংবদন্তির কাতারে নিতে হলে সবার আগে ছাড়িয়ে যেতে হয় নিজের সামর্থ্যকে, সাকিব সেটিই করে দেখালেন। আমাদের প্রাপ্তির খাতায় এটিই সবচেয়ে উজ্জ্বল উপাদান।

আরেকটি সমুজ্জ্বল নাম সম্ভবত মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ৭ ম্যাচে বল হাতে ৩২.০৭ গড়ে ১৩ উইকেটের পাশাপাশি ব্যাট হাতে পাঁচ ইনিংসে ২৯ গড়ে করেছেন ৮৭ রান। সাকিবের পর দলের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে সাইফই নতুন প্রাপ্তি। যদিও ব্যাট হাতে তার সিরিয়াল নিজের ঝুলিতে আরো রান থাকার জন্যে যথেষ্ট নয়। তবে সুযোগ পেয়ে সেটি কাজে লাগানোর দক্ষতা সাইফ দেখিয়েছেন নিউজিল্যান্ড ও ভারতের সঙ্গে। বড় আসরে সৌম্য, লিটন, মিরাজ ও মোসাদ্দেকের মাঝামাঝি ধরনের ফলাফল মনে আশার আলো ফোটাতে পারে। কারণ এরাই আগামীর পাল উড়াবে টাইগারদের।