রোববার

১৩ জুন ২০২১


৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮,

০২ জ্বিলকদ ১৪৪২

দিন বদল বাংলাদেশ

মুন্সিগঞ্জের সবজি যাচ্ছে দুবাই

নিউজ ডেস্ক || দিনবদলবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:০৯, ৬ জুন ২০২১  
মুন্সিগঞ্জের সবজি যাচ্ছে দুবাই

ছবি: সংগৃহীত

মুন্সিগঞ্জ থেকে প্রতিদিন ২-৩ হাজার কেজি বিষমুক্ত করল্লা ও ধুন্দল রপ্তানি হচ্ছে দুবাইয়ে। প্রতিদিন সকালে ঢাকা থেকে পাইকাররা মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার বজ্রযোগীনি বাজারের আড়ৎ থেকে কার্টুনে করে ট্রাকভর্তি সবজি পৌঁছে দিচ্ছে শাহজালাল আন্তজার্তিক বিমান বন্দরে। সেখান থেকে চলে যাচ্ছে দুবাইয়ে।

এদিকে মুন্সিগঞ্জে উৎপাদিত হাজারো মণ সবজি প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে ঢাকার কারওয়ান বাজার, যাত্রাবাড়ী, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, পিরোজপুর, বরিশালসহ অন্যান্য জেলায়। মুন্সিগঞ্জের বজ্রযোগীনি, রামপাল, মহাখালি ইউনিয়ন ও তার আশপাশের জমিগুলোতে প্রতি বছর চাষ হয় করল্লা, ধুন্দল, লাউ, জালি, ঝিঙা, বেগুনসহ অন্যান্য সবজি। 

কৃষি অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে উৎপাদিত এ সমস্ত সবজি উৎপাদন করা হচ্ছে রাসায়নিক সার ও কিটনাশক ছাড়াই। সমন্বিত বালাই দমন ব্যবস্থা ও জৈব সার প্রয়োগ করে উৎপাদন করা হচ্ছে এ সমস্ত সবজি। উৎপাদিত এই সবজিকে কেন্দ্র করে বজ্রযোগীনি বাজার, বটতলা ও বজ্রযোগীনির ভাঙ্গা এলাকায় গড়ে উঠেছে একাধিক আড়ৎ। এ সমস্ত আড়তে সকাল-বিকেল পাইকাররা এসে সবজি কিনেন।

বজ্রযোগীনি বাজার আড়তের মালিক আক্তার হোসেন মেম্বার বলেন, পাইকাররা খুব সকালে আড়তে আসেন। তারা প্রতিদিন ২-৩ হাজার কেজি করল্লা ও ধুন্দল কিনেন। তারা এখান থেকে কার্টুনে করে বিমানবন্দর হয়ে  দুবাইয়ে পাঠান। 

এ ছাড়া বিকেলে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার পাইকারা এখান থেকে ট্রাকভর্তি করে সবজি কিনে নিয়ে বিক্রি করে থাকেন। প্রতিদিন আমার আড়তে ৪ হাজার থেকে ১০ হাজার পর্যন্ত লাউ ও জালি, করল্লা ৩শ’ মণ, ২ হাজার কেজি ধুন্দল, ২ হাজার কেজি ঝিঙা, ডাটা, পটল, বেগুন বিক্রি হয়। এ ছাড়া শীত মৌসুমে বাধাকপি, ফুলকপি, টমেটো, বেগুন, পালংশাক বিক্রি হয়।

ওই আড়তের পাইকার ফজলুর রহমান বলেন, আমি প্রতিদিন এই আড়ৎ থেকে কয়েকশ’ মণ সবজি কিনে যাত্রাবাড়ী এলাকায় বিক্রি করি। এই এলাকার সবজিগুলো বিষমুক্ত হওয়ায় এর চাহিদা ব্যাপক।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বজ্রযোগীনি বটতলা আড়তে করল্লা গুছাচ্ছেন পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার কলারধনিয়া গ্রামের পাইকার মো. আনসার। তিনি জানান, আমি প্রতিদিন এই আড়ৎ থেকে কয়েকশ’ মণ সবজি কিনে ট্রাকে করে বরিশাল শহরের বিভিন্ন আড়তে পাঠিয়ে থাকি। এখানকার সবজিগুলোর মান ভালো হওয়ায় বরিশালে এর চাহিদা রয়েছে।

ওই আড়তে সবজি বিক্রি করতে আসা মো. ইসমাঈল হোসেন বলেন, মুন্সিগঞ্জ কৃষি অফিসের সেলিম ভাইয়ের তত্ত্বাবধানে আমরা আমাদের জমিগুলোতে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করি। এই সবজিগুলোর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সংসদ ভবনের পাশে এ সমস্ত বিষমুক্ত সবজি বিক্রির জন্য আলাদা আড়ত গড়ে তোলা হয়েছে। ওই আড়ত থেকে গাড়ি এসে সবজি বিনা ভাড়ায় নিয়ে যায়। আমাদের সবজি বিষমুক্ত হওয়ায় আমরা ভালো দামে বিক্রি করতে পারছি।

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সেলিম হোসেন জানান, আমি ৪ বছর আগে মাত্র ৩ জন কৃষককে নিয়ে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সার এবং জমিতে কিটনাশক ব্যবহার না করে বিভিন্ন ফাঁদের মাধ্যমে পোকামাকড় দমনের মাধ্যমে সবজি উৎপাদন শুরু করি। এখন কৃষকরা এই পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছে। এই পদ্ধতিতে উৎপাদিত সবজির গুণগত মান ভালো এবং বিষমুক্ত হওয়ায় এর চাহিদাও প্রচুর।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবা নাসরিন বলেন, আমরা ৪ বছর আগে থেকে কৃষকদের বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ করছি। প্রথমে কৃষকদের মধ্যে অনীহা থাকলেও এখন বিষমুক্ত সবজির দাম ভালো পাওয়ায় অনেক কৃষক এ সবজি উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছেন। 

তিনি আরো জানান, আমাদের কৃষি অফিসের বিভিন্ন প্রকল্প থাকে। ওই সমস্ত প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি অফিস থেকে বিনা মূল্যে কৃষকদের জৈব সার ও কিটপতঙ্গ দমনে ফাঁদ দিয়ে থাকি। পাশাপাশি কৃষকদের বাজার থেকে জৈব সার ও কিট দমনের অন্যান্য ফাঁদ কেনার পরামর্শ দিয়ে থাকি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মুন্সিগঞ্জের উপ-পরিচারক মো. খোরশিদ আলম গণমাধ্যমে বলেন, আমাদের অফিসের তত্ত্বাবধানে একটি প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ করে আসছি।

দিনবদলবিডি/কে

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়