রোববার

১৩ জুন ২০২১


৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮,

০২ জ্বিলকদ ১৪৪২

দিন বদল বাংলাদেশ

পিয়ালী মাছের কৃত্রিম প্রজননে বিএফআরআই বিজ্ঞানীদের সাফল্য

ময়মনসিংহ সংবাদদাতা || দিনবদলবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:০৯, ৮ জুন ২০২১  
পিয়ালী মাছের কৃত্রিম প্রজননে বিএফআরআই বিজ্ঞানীদের সাফল্য

পিয়ালী মাছ

যমুনা ও পদ্মাবিধৌত এলাকায় একসময় প্রচুর পিয়ালী মাছ পাওয়া যেত। পরিবেশ বিপর্যয় ও অতি আহরণের ফলে এটি এখন সংকটাপন্ন মাছের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। পিয়ালীকে প্রকৃতিতে টিকিয়ে রাখতে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) দেশে প্রথমবারের মতো এর প্রজনন ও পোনা উৎপাদন কৌশল উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছে।

গতকাল (সোমবার) এ তথ্য নিশ্চিত করে বিএফআরআই। বিএফআরআইয়ের ময়মনসিংহ কার্যালয় থেকে জানানো হয়, বগুড়ার সান্তাহারে প্লাবনভূমি উপকেন্দ্রের বিজ্ঞানীদের দীর্ঘ গবেষণার ফলে পিয়ালী মাছের পোনাপ্রাপ্তি সহজতর হবে এবং চাষের আওতায় আনা যাবে। গবেষক দলে ছিলেন উপকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ডেভিড রিন্টু দাস, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান ও মালিহা খানম।

বিএফআরআই আরও জানায়, পিয়ালী মাছ এলাকাভেদে জয়া, পিয়ালী বা পিয়াসী নামে পরিচিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম Aspidoparia jaya। এ মাছটি সিপ্রিনিডি (Cyprinidae) পরিবারভুক্ত মিঠা পানির একটি মাছ। বাংলাদেশ (পদ্মা ও যমুনা এবং তাদের শাখা নদীতে), ভারত (আসাম, উত্তরাঞ্চল, উত্তরপ্রদেশ), নেপাল, ইরান, মিয়ানমার, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও আফগানিস্তানে এই মাছের বিস্তৃতি রয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, মে থেকে আগস্ট এবং ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসে নদীতে প্রজননক্ষম পরিপকস্ফ স্ত্রী মাছ পাওয়া যায় এবং জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে জলাশয়ে পিয়ালীর পোনার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। পিয়ালী মাছের ডিম ধারণ ক্ষমতা আকার ভেদে দেড় হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার। ইনস্টিটিউটের চলমান এই গবেষণায় পাঁচজোড়া পিয়ালী মাছকে চলতি জুন মাসে ১:১.৫ অনুপাতে হরমোন প্রয়োগ করা হয়। হরমোন প্রয়োগের ছয় থেকে আট ঘণ্টা পর ডিম ছাড়ে এবং ২০ থেকে ২২ ঘণ্টা পর নিষিক্ত ডিম থেকে রেণু উৎপাদিত হয়। ডিম নিষিক্ততার পরিমাণ ছিল প্রায় ৭৬ ভাগ। বর্তমানে ইনস্টিটিউটের প্লাবনভূমি উপকেন্দ্রের হ্যাচারিতে পালন করা হচ্ছে।

দিনবদলবিডি/এইচ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়