শুক্রবার

২২ জানুয়ারি ২০২১


৯ মাঘ ১৪২৭,

০৮ জমাদিউস সানি ১৪৪২

দিন বদল বাংলাদেশ

কোরআন-হাদিসের আলোকে প্রতিবন্ধীদের অধিকার

ইসলাম প্রতিবন্ধী, অক্ষম ও দুর্বল ব্যক্তিদের অনেক কঠিন কাজ সহজ করে দিয়েছে এবং তাদের থেকে কষ্ট দূর করার বিধান দিয়েছে।

গাজী মো. রুম্মান ওয়াহেদ || দিনবদলবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:১৩, ৩ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ১২:৪৭, ৩ ডিসেম্বর ২০২০
কোরআন-হাদিসের আলোকে প্রতিবন্ধীদের অধিকার

আমাদের দায়িত্ব হলো, নিজের সুস্থতার জন্য আল্লাহ তায়ালার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং প্রতিবন্ধী ভাইদের জন্য দোয়া করা।

প্রতিবন্ধী বলতে আমরা তাদের বুঝি, যাদের দেহের কোনো অংশ বা তন্ত্র আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে, ক্ষণস্থায়ী বা চিরস্থায়ীভাবে তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারিয়েছে।

আমাদের মনে রাখতে হবে, আল্লাহ তায়ালাই সব কিছুর সৃষ্টিকর্তা। তিনি ভালো-মন্দেরও সৃষ্টিকর্তা। কিন্তু তাঁর সৃষ্টিকুলের কিছু অংশকে আমরা অনেক সময় অস্বাভাবিক ও অসুস্থ দেখতে পাই। এর রহস্য ও কল্যাণ আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন। 

আরো পড়ুন >>> জুমার নামাজের ফরজ

আরো পড়ুন >>> ইসলামে দাস-দাসীদের সম্মান

তবে কেউ কেউ আল্লাহর রহস্য ও কল্যাণের কথা না বুঝেই স্বয়ং সৃষ্টিকর্তাকে দোষ দেয়; অথচ তিনি সম্পূর্ণ পবিত্র ও দোষমুক্ত। আবার অনেকে সৃষ্টিকেই দোষারোপ করে। যার কোনোটাই উচিত নয়। সৃষ্টিজগতের একাংশকে ত্রুটিপূর্ণ বা অপূর্ণাঙ্গ করার রহস্য আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন।

ইসলাম প্রতিবন্ধী, অক্ষম ও দুর্বল ব্যক্তিদের অনেক কঠিন কাজ সহজ করে দিয়েছে এবং তাদের থেকে কষ্ট দূর করার বিধান দিয়েছে।

হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তিন ব্যক্তি থেকে কলম উঠিয়ে রাখা হয়েছে- ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয়, নাবালেগ যতক্ষণ না সে বালেগ হয় এবং পাগল যতক্ষণ না সে জ্ঞান ফিরে পায় বা সুস্থ হয়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২০৪১)

আরো পড়ুন >>> প্রতিদিন রাসূল (সা.) এর একটি হাদিস: সব রোগের ওষুধ...

প্রতিবন্ধীরা মানবজাতির অংশ। সমাজের বোঝা নয়, তাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন ও সহযোগিতার হাত বাড়ানো প্রতিটি মানুষের কর্তব্য।

ইসলাম মানব মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সর্বজনস্বীকৃত বিশ্বজনীন ধর্ম। প্রতিবন্ধীরা যেহেতু মানবজাতির অংশ তাই সুস্পষ্টভাবেই একথা ভাবা যায় যে, ইসলাম তাদের ব্যাপারে অবশ্যই বিশেষ ব্যবস্থাপনার কথা বলবে এবং তা বিশেষভাবে পালনের তাগিদ প্রদান করবে।

এ কথা খুবই স্বাভাবিক যে, কোনো সভ্য সমাজ প্রতিবন্ধীদের নগণ্য করে কিংবা জীবনযাপনের সম্মানযোগ্য অবস্থান থেকে আলাদা করে রাখার ধারণাও করতে পারে না। একটি বিষয় খুবই স্পষ্ট যে, সামাজিক জীবনে সাধারণ ব্যক্তিবর্গ যেসব অধিকারের যোগ্য সমাজের অংশ হিসেবে প্রতিবন্ধীরাও ওইসব অধিকার লাভের যোগ্যতা অবশ্যই রাখে। তথাপি সাধারণ লোকদের স্বীকৃত অধিকার ছাড়াও ইসলাম প্রতিবন্ধীদের যেসব বিশেষ অধিকার প্রদান করেছে, তা নিম্নে সংক্ষেপে আলোকপাত করা হলো-

আরো পড়ুন >>> দুই হাজার বছরের পরিত্যক্ত হেগ্রা নগরী খুলে দেবে সৌদি 

১. সাধারণ সমাবেশ বা সভাতেও তাদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি প্রদান করা:
ইসলামে জীবনের সব কর্মকান্ডে প্রত্যেক ব্যক্তিকে বর্ণ, বংশ ও সামাজিক অবস্থানের ব্যাপারে পার্থক্যহীনভাবে সমান মর্যাদা দেয়া হয়েছে। সাধারণত আমাদের সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে, প্রতিবন্ধীদের জীবনের সাধারণ লেনদেন ও মেলামেশায় পিছিয়ে রাখা। কিন্তু পবিত্র কোরআনুল কারিমে মহান আল্লাহ তায়ালা এই দৃষ্টিভঙ্গির তীব্র নিন্দা করে মানবাত্মার মাহাত্ম্য ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

একদা আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) মুশরিক নেতৃবৃন্দকে ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছিলেন, এমতাবস্থায় অন্ধ সাহাবি হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতূম (রা.) তাঁর খেদমতে উপস্থিত হলেন। অন্যদের সঙ্গে কথাবার্তায় ব্যস্ত থাকায় নবীজি (সা.) কর্তৃক হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাকতূমের প্রতি দৃষ্টিদানের সুযোগ হয়নি। আর এ বিষয়কে উপলক্ষ করে নিম্নোক্ত আয়াত অবতীর্ণ হয়, 

عَبَسَ وَتَوَلَّى
তিনি ভ্রূকুঞ্চিত করলেন এবং মুখ ফিরিয়ে নিলেন।  (সূরা : আবাসা, আয়াত : ১)

أَن جَاءهُ الْأَعْمَى
কারণ, তাঁর কাছে এক অন্ধ আগমন করল।  (সূরা : আবাসা, আয়াত : ২)

وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّهُ يَزَّكَّى
আপনি কি জানেন, সে হয়তো পরিশুদ্ধ হতো,  (সূরা : আবাসা, আয়াত : ৩)

أَوْ يَذَّكَّرُ فَتَنفَعَهُ الذِّكْرَى
অথবা উপদেশ গ্রহণ করতো এবং উপদেশ তার উপকার হতো। (সূরা : আবাসা, আয়াত : ৪)

উক্ত বরকতপূর্ণ আয়াতসমূহের মাধ্যমে বিশ্ব নবী (সা.) এর উম্মতদের এ শিক্ষা দেয়া হয়েছে যে, 

আরো পড়ুন >>> কলম্বাসের আগে আমেরিকা আবিষ্কার করেন যে বিজ্ঞানী

১. অক্ষম ব্যক্তিরা চলাফেরায় অন্য লোকদের তুলনায় অধিক সাহায্য-সহযোগিতা লাভের অধিকারী। তাদের অন্য লোকদের ওপর অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং তাদের এড়িয়ে চলা যাবে না।

২. মানমর্যাদা নির্ধারণ সামাজিক অবস্থান কিংবা চাল-চলন দেখে করা যাবে না বরং এর জন্য ব্যক্তিত্ব, খোদাভীরুতা, আত্মশুদ্ধি ও পুণ্যের আবেগ-স্পৃহার মানদন্ড স্থির করতে হবে।

২. মেলামেশায় নীতি ভিন্নতার অধিকার প্রদান :
ইসলাম অন্যান্য বিষয়ের ন্যায় জীবনযাত্রা ও মেলামেশার ক্ষেত্রেও বিশেষ নীতি ও শৃঙ্খলা দান করেছে। দৈনন্দিন লেনদেন, আত্মীয়দের সঙ্গে সদ্ভাব ও প্রিয়জনদের ঘরে আসা-যাওয়ার সুস্পষ্ট বিধান দেয়া হয়েছে। 

কিন্তু এ বিষয়টি বিশেষভাবে চিন্তাযোগ্য যে, কোরআনুল কারিমে প্রতিবন্ধীদের ওই নীতিমালা থেকেও স্বতন্ত্র রাখা হয়েছে। পবিত্র কোরআনুল কারিমে বর্ণিত হয়েছে- 

لَيْسَ عَلَى الْأَعْمَى حَرَجٌ وَلَا عَلَى الْأَعْرَجِ حَرَجٌ وَلَا عَلَى الْمَرِيضِ حَرَجٌ وَلَا عَلَى أَنفُسِكُمْ أَن تَأْكُلُوا مِن بُيُوتِكُمْ أَوْ بُيُوتِ آبَائِكُمْ أَوْ بُيُوتِ أُمَّهَاتِكُمْ أَوْ بُيُوتِ إِخْوَانِكُمْ أَوْ بُيُوتِ أَخَوَاتِكُمْ أَوْ بُيُوتِ أَعْمَامِكُمْ أَوْ بُيُوتِ عَمَّاتِكُمْ أَوْ بُيُوتِ أَخْوَالِكُمْ أَوْ بُيُوتِ خَالَاتِكُمْ أَوْ مَا مَلَكْتُم مَّفَاتِحَهُ أَوْ صَدِيقِكُمْ لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَن تَأْكُلُوا جَمِيعًا أَوْ أَشْتَاتًا فَإِذَا دَخَلْتُم بُيُوتًا فَسَلِّمُوا عَلَى أَنفُسِكُمْ تَحِيَّةً مِّنْ عِندِ اللَّهِ مُبَارَكَةً طَيِّبَةً كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمُ الْآيَاتِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُون

‘অন্ধের জন্যে দোষ নেই, খঞ্জের জন্যে দোষ নেই, রোগীর জন্যে দোষ নেই, এবং তোমাদের নিজেদের জন্যেও দোষ নেই যে, তোমরা আহার করবে তোমাদের গৃহে অথবা তোমাদের পিতাদের গৃহে অথবা তোমাদের মাতাদের গৃহে অথবা তোমাদের ভ্রাতাদের গৃহে অথবা তোমাদের ভগিণীদের গৃহে অথবা তোমাদের পিতৃব্যদের গৃহে অথবা তোমাদের ফুফুদের গৃহে অথবা তোমাদের মামাদের গৃহে অথবা তোমাদের খালাদের গৃহে অথবা সেই গৃহে, যার চাবি আছে তোমাদের হাতে অথবা তোমাদের বন্ধুদের গৃহে। তোমরা একত্রে আহার কর অথবা পৃথকভবে আহার কর, তাতে তোমাদের কোনো দোষ নেই। অতঃপর যখন তোমরা গৃহে প্রবেশ কর, তখন তোমাদের স্বজনদের প্রতি সালাম বলবে। এটা আল্লাহর কাছ থেকে কল্যাণময় ও পবিত্র দোয়া। এমনিভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্যে আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ননা করেন, যাতে তোমরা বুঝে নাও।’ (সূরা: আন নূর, আয়াত: ৬১)

আরো পড়ুন >>> সেনাবাহিনীতে ‘সৈনিক’ পদে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ 

৩. জিহাদ ও প্রতিরক্ষামূলক দায়িত্ব বর্জনের অধিকার প্রদান :
মহা পবিত্র আল-কোরআনে ইসলামি নেতৃত্বের সম্প্রসারণ ও সত্য দ্বীনের বিজয় প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার লক্ষ্যে জিহাদে অংশগ্রহণকে ঈমান ও ইস্তিকামাত (অটলতা) পরীক্ষার মূল মানদণ্ডরূপে বর্ণনা করা হয়েছে এবং এ মৌলিক দায়িত্ব এড়িয়ে চলা ও পরিহার করাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু অক্ষম বিকলাঙ্গ লোকদের এ মহান মৌলিক জিম্মাদারী থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। আল কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে, 

لَيْسَ عَلَى الْأَعْمَى حَرَجٌ وَلَا عَلَى الْأَعْرَجِ حَرَجٌ وَلَا عَلَى الْمَرِيضِ حَرَجٌ وَمَن يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ وَمَن يَتَوَلَّ يُعَذِّبْهُ عَذَابًا أَلِيمًا

‘অন্ধের জন্যে, খঞ্জের জন্যে ও রুগ্নের জন্যে কোনো অপরাধ নাই এবং যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুগত্য করবে তাকে তিনি জান্নাতে দাখিল করবেন, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত হয়। পক্ষান্তরে যে, ব্যক্তি পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে, তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেবেন। (সূরা : আল ফাতাহ, আয়াত : ১৭)

উল্লিখিত সংক্ষিপ্ত আলোচনার পর এ কথাও বলা যেতে পারে যে, ইসলামি আইন প্রতিবন্ধীদের জন্য দায়িত্ব-কর্ম বর্জনকেই তাদের মৌলিক অধিকার বলে ঘোষণা করেছে। 

আরো পড়ুন >>> রাসূল (সা.) এর হাদিস: শীতে ওজু ও নামাজ প্রসঙ্গে

ইসলামের নৈতিক শিক্ষায় নিম্নোক্ত বিষয়গুলো সুস্পষ্ট :

১. ইসলাম প্রতিবন্ধীদের সামাজিক জীবনে একটি সম্মানযোগ্য অংশ হিসেবে বিবেচনার শিক্ষা দেয়।

২. ইসলাম এ ব্যাপারে শিক্ষাদান করে যে, বিকলাঙ্গদের বিশেষভাবে দেখাশোনা করতে হবে এবং জীবনের কোনো ক্ষেত্রে কোনোভাবেই তাদের আলাদা রাখার ধারণাও করা যাবে না।

৩. পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে তাদের ওপর এমন কোনো দায়িত্বের বোঝা চাপানো যাবে না, যা পালন করা তাদের পক্ষে আদৌ সম্ভব নয়।

৪. যাবতীয় অধিকার আদায়ে অক্ষমদের অগ্রাধিকার দিতে হবে যাতে করে জীবনযাপনে তাদের সুবিধাপ্রাপ্তিতে কোনো ধরনের বাধা না থাকে।

আর এগুলোই হলো ইসলামের চিরন্তন শিক্ষা। তাই আসুন আমরা আমাদের পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও বৈশ্বিক জীবনে এই মহান শিক্ষার বাস্তবায়ন করতে সচেষ্ট হই।

উল্লেখ্য, প্রতিবন্ধী হয়েও ইসলামের ইতিহাসে সম্মান ও খ্যাতি অর্জন করেন বহু মনীষী; যেমন-

১. আবদুল্লাহ ইবনে মাকতুম (রা.)-কে ১৪ বার মদিনার স্থলাভিষিক্ত করেন। অথচ তিনি ছিলেন অন্ধ।

২. হজরত মুয়াজ বিন জাবাল (রা.) পঙ্গু ছিলেন। তাকে রাসূলুল্লাহ (সা.) ইয়েমেনের গভর্নর হিসেবে প্রেরণ করেন।

৩. হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) শেষ জীবনে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। তার পরও তিনি কোরআনের শ্রেষ্ঠ ভাষ্যকার ও সমকালের শ্রেষ্ঠ হাদিস বিশারদের মর্যাদা অর্জন করেন।

৪. শ্রেষ্ঠ তাবেয়িদের অন্যতম হজরত আতা (রহ.) কৃষ্ণাঙ্গ, অন্ধ ও বোজা নাকের অধিকারী ছিলেন। শুধু তা-ই নয়, তার হাত ছিল পক্ষাঘাতগ্রস্ত এবং পা ছিল ল্যাংড়া।

৫. আল-আহওয়াল (ট্যারা চোখবিশিষ্ট)। ‘আসিম ইবনে সোলায়মান আল-বসরি (মৃত্যু ১৪২ হিজরি), তিনি হাফিজুল হাদিস ও সিকাহ ছিলেন।

৬. আল-আসাম (সাদা পা-বিশিষ্ট)। হাতিম ইবনে উনওয়ান (মৃত্যু ২৩৭ হিজরি), তিনি আল্লাহভীরুতা, আত্মসংযম ও অনাড়ম্বর জীবনযাপনের জন্য বিখ্যাত ছিলেন। তাকে এ উম্মতের লোকমান হাকিম বলা হতো।

প্রতিবন্ধীর দেখাশোনা করা অভিভাবকের জন্য জরুরি। আর সমষ্টিগতভাবে সব মুসলিমের জন্য ফরজে কিফায়া। অর্থাৎ সমাজের কিছু লোক তাদের দেখাশোনা করলে বাকিরা গুনাহগার হবে না।

এখন আমাদের দায়িত্ব হলো, নিজের সুস্থতার জন্য আল্লাহ তায়ালার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং প্রতিবন্ধী ভাইদের জন্য দোয়া করা। ইসলাম তাদের যেসব অধিকার দিয়েছে তা যথাযথভাবে আদায় করা। যথাসম্ভব প্রতিবন্ধীদের সাহায্য-সহযোগিতা করা। সেটা অন্ধ ব্যক্তিকে রাস্তা চলায় সাহায্য করা হোক কিংবা তাদের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে সাহায্য করা হোক কিংবা তাদের শিক্ষাদানে সহযোগিতা হোক। 

দিনবদল বিডি/জিএ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়