সোমবার

২৩ মে ২০২২


৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯,

২১ শাওয়াল ১৪৪৩

দিন বদল বাংলাদেশ

মৃতদের জন্য করণীয়

ধর্ম ডেস্ক || দিনবদলবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৪৭, ২০ জানুয়ারি ২০২২  
মৃতদের জন্য করণীয়

চিরন্তন সত্য এই মৃত্যুর পর মানুষের আর কিছুই করার থাকে না

প্রত্যেককেই একদিন মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আর এ মৃত্যুই হলো মানুষের শেষ পরিণতি। কেউ আগে; কেউ পরে।

চিরন্তন সত্য এই মৃত্যুর পর মানুষের আর কিছুই করার থাকে না। তবে তাদের জন্য জীবিতদের অনেক করণীয় আছে। যেমন- মৃতদের দাফন-কাফনসহ তাদের জন্য মাগফিরাত কামনা করা, তাদের রেখে যাওয়া ঋণ পরিশোধ করা ইত্যাদি। নিচে এ সংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত আলোচনা তুলে ধরা হলো-

ইন্নালিল্লাহ পাঠ ও ধৈর্য ধারণ

মৃত্যু সংবাদ শুনে ‘ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ পাঠ করা, ধৈর্য ধারণ করা এবং আল্লাহর তাকদিরের ওপর সন্তুষ্ট থাকা আবশ্যক। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যখন তারা বিপদে পতিত হয়, তখন বলে, ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন (নিশ্চয় আমরা সবাই আল্লাহর জন্য এবং আমরা সবাই তাঁরই সান্নিধ্যে ফিরে যাব)। তারা সে সমস্ত লোক, যাদের প্রতি আল্লাহর অফুরন্ত অনুগ্রহ ও রহমত রয়েছে এবং এসব লোকই হেদায়েতপ্রাপ্ত।’ (সূরা: বাকারা : ১৫৬ ও ১৫৭)। মৃত্যু যেহেতু আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত, তাই আল্লাহর তাকদিরের ওপর বিশ্বাস রাখা এবং ধৈর্য ধারণ করা।

গোসল, জানাজা ও দাফন

কোনো মুসলমান মৃত্যুবরণ করলে জীবিত মানুষদের ওপর আবশ্যক হলো, তার গোসল, কাফন, জানাজা এবং দাফন কার্য সম্পন্ন করা। এটি ফরজে কেফায়া। কিছু সংখ্যক মুসলমান এটি সম্পন্ন করলে সবার পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি জানাজার নামাজে উপস্থিত হবে তার জন্য এক কিরাত সমপরিমাণ সওয়াব আর যে দাফনেও উপস্থিত হলো তার জন্য দুই কিরাত সমপরিমাণ সওয়াব রয়েছে। জিজ্ঞাসা করা হলো, কিরাত কী? তিনি বললেন, দুটি বড় বড় পাহাড় সমপরিমাণ।’ (বুখারি ও মুসলিম)।

মাগফিরাতের দোয়া

মানুষ মারা যাওয়ার পর তার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন দোয়া। তাই মৃতদের জন্য জীবিতদের দোয়া করতে হবে। আল্লাহ তাআলা যেন তাকে ক্ষমা করে দেন, তার গুনাহ-খাতা মোচন করে দেন। আল্লাহ বলেন, ‘যারা তাদের পরে এসেছে তারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এবং আমাদের পূর্বে যারা ঈমানের সঙ্গে (দুনিয়া থেকে) চলে গেছে তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং মুমিনদের ব্যাপারে আমাদের অন্তরে হিংসা-বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি তো অতি মেহেরবান এবং দয়ালু।’ (সূরা: হাশর, আয়াত: ১০)।

অন্য হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তার আমলের সমস্ত পথ বন্ধ হয়ে যায় তিনটি ব্যতীত: যদি সে সদকায়ে জারিয়া রেখে যায়, এমন শিক্ষার ব্যবস্থা করে যায় যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হবে এবং এমন নেককার সন্তান রেখে যায় যে তার জন্য দোয়া করবে।’ (বুখারি)।

মৃতদের পক্ষে দান-সদকা

মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে দান-সদকা করা হলে কবরে তার সওয়াব পৌঁছে। চাই মৃতের সন্তান, পিতা-মাতা অথবা অন্য কোনো মুসলমান দান করুক না কেন। আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে জিজ্ঞাসা করল যে, আমার মা হঠাৎ মৃত্যুবরণ করেছে। আমার ধারণা মৃত্যুর আগে কথা বলতে পারলে তিনি দান করতেন। এখন আমি যদি তার পক্ষ থেকে দান-সদকা করি তবে তিনি কি সওয়াব পাবেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ। (বুখারি : হাদিস ১৩৮৮)।

ঋণ পরিশোধ

কোনো ব্যক্তি যদি ঋণ রেখে মারা যায় অথবা কোনো অসিয়ত করে যায় তবে তার উত্তরাধিকারীদের জন্য আবশ্যক হলো, তার পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে সবার আগে ঋণ পরিশোধ করা। কারণ এটা মৃতের সম্পত্তিতে ঋণ দাতার হক। যতক্ষণ তা আদায় করা না হবে মৃত ব্যক্তি তা হতে মুক্তি পাবে না। ঋণ পরিশোধের পর অবশিষ্ট সম্পত্তি থেকে অসিয়ত পালন করতে হবে। মৃত ব্যক্তির ঋণ পরিশোধ ও অসিয়ত পূরণের পরই তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি ওয়ারিশদের মাঝে বণ্টন করা যাবে। এর পূর্বে নয়। 
আল্লাহ বলেন, ‘(মৃতের পরিত্যক্ত সম্পত্তি বণ্টন করা হবে) অসিয়তের পর, যা করে মারা গেছে কিংবা ঋণ পরিশোধের পর।’ (সূরা: নিসা, আয়াত: ১১)।

এ ছাড়াও মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে (যদি তার ওপর হজ ফরজ হয়ে থাকে) বদলি হজ বা ওমরা আদায় করা, মানতের রোজা থাকলে তার পক্ষ থেকে পালন করা, আর রমজানের রোজা বাকি থাকলে প্রত্যেক রোজার বিনিময়ে একজন মিসকিনকে খাদ্য প্রদান করা নিকটাত্মীয়দের দায়িত্ব।

দিনবদলবিডি/জিএ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়