সোমবার

২৩ মে ২০২২


৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯,

২১ শাওয়াল ১৪৪৩

দিন বদল বাংলাদেশ

রাসূলুল্লাহ (সা.) মিসরের বাদশাহ মুকাউকিসের কাছে পাঠানো চিঠিতে যা লিখেছিলেন

ধর্ম ডেস্ক || দিনবদলবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:২২, ২৪ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১২:২৪, ২৪ জানুয়ারি ২০২২
রাসূলুল্লাহ (সা.) মিসরের বাদশাহ মুকাউকিসের কাছে পাঠানো চিঠিতে যা লিখেছিলেন

‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম....

বিশ্বনবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইসলামকে বিশ্বময় ছড়িয়ে দিতে কোনো সামান্য সুযোগও হাতছাড়া করতেন না। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আরবের বাইরের রাজা-বাদশাহদের কাছেও ইসলামের দাওয়াত দিয়ে একাধিক চিঠি লিখেছেন। কেননা, মানুষের কাছে দ্বীন পৌঁছে দেওয়া অন্যতম মাধ্যম চিঠি।

হিজরতের ষষ্ঠ বছরে কুরাইশদের সঙ্গে মুসলমানদের যে সন্ধিচুক্তি হয়, সেটিকে আল্লাহর রাসূল (সা.) সুবর্ণ সুযোগ মনে করলেন এবং এরপর থেকে বিশ্বব্যাপী ইসলামকে ছড়িয়ে দিতে তৎকালীন বড় বড় রাজা-বাদশাহর কাছে চিঠি লিখলেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিসরের বাদশাহ মুকাউকিসকে যে চিঠি লিখেছিলেন, আলআরাবিয়া ডটনেট থেকে তা বাংলায় ভাষান্তর করা হলো-

‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম....আল্লাহর রাসূল মোহাম্মদের পক্ষ থেকে কিবতিদের মহান বাদশাহ মুকাউকিসের প্রতি....ওই ব্যক্তির ওপর সালাম যিনি হেদায়েতের অনুসরণ করেন। অতঃপর আমি আপনাকে ইসলামের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। ইসলাম গ্রহণ করুন, তাহলে নিরাপত্তাপ্রাপ্ত হবেন এবং আল্লাহ আপনাকে দ্বিগুণ প্রতিদান দান করবেন। কিন্তু আপনি যদি মুখ ফিরিয়ে নেন, তাহলে আপনার ওপর কিবতিদের গুনাহও পতিত হবে। হে আহলে কিতাব! এমন এক কথার দিকে আসো, যা আমাদের এবং তোমাদের উভয়ের ক্ষেত্রেই সমান। তা হলো- আমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারো ইবাদত করব না এবং তাঁর সঙ্গে কোনো কিছুকে অংশীদার সাব্যস্ত করব না। আল্লাহর পরিবর্তে আমাদের কতক কতককে প্রতিপালক বানাব না। তবে যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও তাহলে স্বাক্ষী থাকো আমরা মুসলমান।’

এই চিঠিটি হজরত হাতেব ইবনে আবু বালতা রা. মুকাউকিসের কাছে পৌঁছে দেন। মুকাউকিস চিঠিটি হাতে পেয়ে হজরত হাতেব (রা.)-কে প্রশ্ন করলেন, ‘বাস্তবেই যদি তোমাদের সাথী নবী হয়ে থাকেন, তাহলে তাঁকে কোন জিনিস বাধা দিচ্ছে ওই ব্যক্তিদের বিপক্ষে বদদোয়া করতে যারা তাঁকে স্বদেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। এটি করলে আল্লাহ তাদের ওপর আজাব পাঠাতেন?’

হজরত হাতেব ইবনে আবু বালতা (রা.) উত্তরে বললেন, ‘হজরত ঈসা (আ.)-কে কোন জিনিস ওই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করতে নিষেধ করেছিল, যারা তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল? তিনি তা করলে আল্লাহ তাদের ওপর তাদের অপরাধ অনুযায়ী আজাব পাঠাতেন?’

তখন মুকাউকিস বললেন, ‘তুমি জ্ঞানী এবং এক মহাজ্ঞানী থেকে তুমি প্রেরিত।’

এভাবে আল্লাহর রাসূল (সা.) পৃথিবীর সে তৎকালীন বড় বড় রাজা-বাদশাহ; হাবশার নাজ্জাশি, রোমের হিরাক্লিয়ার্স, পারস্যের কিসরা, বাহরাইনের আমির মুনজির, ইয়ামামার আমির বুজা প্রমুখের কাছে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে চিঠি পাঠান।

এদের মধ্যে পারস্য সম্রাট কিসরা (খসরু) রাসূল (সা.) এর চিঠি টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে ফেললেন এবং বললেন, ‘আমার রাজ্যের এক গোলাম আমার নামের ওপরে তাঁর নাম লিখেছে।’

যখন আল্লাহর রাসূল (সা.) এই খবর শুনলেন, তখন তিনি বললেন, ‘আল্লাহ তার রাজত্বও টুকরো টুকরো করে দেবেন।’

ঠিক এমনটিই হয়েছিল, যেভাবে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছিলেন। কয়েক বছর পর কিসরা তার নিজের ছেলের হাতে নিহত হন এবং তার সালতানাত টুকরো টুকরো হয়ে যায়।

বিভিন্ন রাজা-বাদশাহর কাছে আল্লাহর রাসূলের (সা.) পাঠানো কিছু চিঠির প্রতিলিপি এখনো তুরস্কের ইস্তাম্বুলের একটি জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।

সূত্র: আলআরাবিয়া

দিনবদলবিডি/জিএ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়