শনিবার

০৪ ডিসেম্বর ২০২১


২১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৮,

২৬ রবিউস সানি ১৪৪৩

দিন বদল বাংলাদেশ

লোভে অন্ধ পিতা: জীবিত রেমিট্যান্স যোদ্ধা দেশে ফিরে জানলেন তিনি ‘মৃত’!

চাঁদপুর সংবাদদাতা || দিনবদলবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:১৮, ২২ নভেম্বর ২০২১   আপডেট: ২২:৩৩, ২২ নভেম্বর ২০২১
লোভে অন্ধ পিতা: জীবিত রেমিট্যান্স যোদ্ধা দেশে ফিরে জানলেন তিনি ‘মৃত’!

ছবি: সংগৃহীত

জন্মদাতা পিতার চক্ষুলজ্জাহীন লোভের কারণে রেমিট্যান্স যোদ্ধা ঝুটন জীবিত হয়েও কাগজে-কলমে হয়ে পড়েন মৃত। দীর্ঘকাল প্রবাসে থেকে দেশে ফিরে যখন নিজ সম্পত্তিতে বাড়ি নির্মাণ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন তিনি। এরপর জানতে পারেন, এই সম্পত্তির ওয়ারিশ তার বাবা- কারণ সরকারি দলিল দস্তাবেজে তিনি এখন ‘মৃত’! এমন ঘটনা ঘটেছে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে। 

আর এই নজিরবিহীন অপকর্মটি ঘটিয়েছেন ফরিদগুঞ্জের ১১নং চরদুঃখিয়া পূর্ব ইউনিয়ন আহাম্মদ উল্যা বেপারী। ছেলের মামলায় তিনি এখন শ্রীঘরে আর বিষয়টি সবাইকে জানাতে ভুক্তভোগী ওই রেমিটেন্স যোদ্ধা তার জন্মদাতা পিতার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। 

পিতার বিরুদ্ধে কেন মামলা দায়ের করতে বাধ্য হলেন, সেই বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতেই গত শনিবার (২০ নভেম্বর) সকালে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন বলে জানান প্রবাসী এমরান হোসেন জহির ওরফে ঝুটন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ‘মৃত’ ঝুটন সাংবাদিকদের জানান, তিনি তার বাবা আহাম্মদ উল্যা বেপারীর প্রথম স্ত্রী খুরশিদা বেগমের ছেলে। এই ঘরে তার খাদিজা বেগম লাকি নামে আরেক বোন রয়েছেন (বর্তমানে মৃত)। ঝুটনের মায়ের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পর দ্বিতীয় বিয়ে করেন আহাম্মদ উল্যা এবং সেই ঘরে সৎ মা এবং তিন বোন রয়েছেন।

লিখিত বক্তব্যে ঝুটন আরো বলেন, জন্মের পর থেকে আমি পিতার আদর-স্নেহ-ভালবাসা থেকে বঞ্চিত হলেও জীবিকার টানে প্রবাসে যাওয়ার পর থেকে পিতার সার্বক্ষণিক দেখভাল করেছি। তাকে ভরণপোষণ বাবদ টাকা এবং সৎ বোনের বিয়ে এবং বাবার চোখের অপারেশরে জন্য টাকা দিয়েছি।

কিন্তু আমার সেই জন্মদাতা বাবা আমাকে মৃত দেখিয়ে গত ২০১০ সালের ৮ আগস্ট আমাদের স্থানীয় ১১নং চরদুঃখিয়া পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে তৎকালীন চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ পাটওয়ারী ও সচিবের স্বাক্ষরে নিজের নামে ওয়ারিশ সনদ গ্রহণ করেন। একই তারিখে তিনি আমার বোন খাদিজা বেগম লাকির মৃত্যুর সনদ দেখান। এরপর নিজেকে একক ওয়ারিশ দেখিয়ে সনদ গ্রহণ করেন।

ফলে আমি আজ আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে সংবাদ সম্মেলন করলেও আমার পিতার কাছে আমি মৃত। 

এসময় ঝুটন আবেগপ্রবণ হয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্ন করেন, জন্মদাতা পিতা হয়ে তিনি কিভাবে শুধুমাত্র সম্পত্তির লোভে নিজের ঔরসজাত সন্তানকে মৃত দেখালেন!

চেয়ারম্যান কর্তৃক জীবতকে মৃত উল্লেখ করে দেওয়া ওয়ারিশান সনদ  -দিনবদলবিডি

এমরান হোসেন ঝুটন আরও বলেন, শুধু তাই নয়, তিনি (আহম্মদ উল্যা) নিজেকে তার পিতার একমাত্র সন্তান দাবি করে তথা আমার ৫ (পাঁচ) ফুফুর অস্তিত্ব অস্বীকার করে গত ২০১০ নালের ২৭ অক্টোবর একই ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একই চেয়ারম্যানের কাছে ওয়ারিশ সনদ গ্রহণ করেন। জাল-জালিয়াতির এমন নজির আমি অদ্যাবধি দেখিনি।

তিনি বলেন, আমি প্রবাস থেকে গত দেড় মাস আগে দেশে ফিরে আসার পর ফুফু কর্তৃক আমাকে দান করা ও আরেক ফুফু থেকে ক্রয়কৃত জমিতে বাড়ি নির্মাণ করতে গেলে বাধার সম্মুখীন হই। একপর্যায়ে এর কারণ জানতে গিয়ে বাবার এসব কুকর্মের কথা জানতে পারি। এলাকায় এ বিষয়ে কয়েকবার স্থানীয়ভাবে সালিশি সত্ত্বেও কোনো সুরাহা না হওয়ায়, আমি বাধ্য হয়ে গত ১৮ নভেম্বর চাঁদপুর আদালতে অভিযোগ করি।

পরে আদালতের নির্দেশে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে এবং ওইদিন রাতেই আমার পিতাকে আটক করে। পরদিন শুক্রবার পুলিশ তাকে আদালতে পাঠায়। এরপর আদালত আমার বাবাকে জেল হাজতে পাঠান। 

সংবাদ সম্মেলনে এমরান হোসেন জহির ওরফে ঝুটনের মা খুরশিদা বেগম, স্ত্রী মুক্তা আক্তার, ফুফাতো বোন সরলা বেগম, ফুফাতো ভাই জাহাঙ্গীর আলম, সেলিম পাটওয়ারী, দেলোয়ার হোসেন এবং এলাকাবাসীর পক্ষে সোহেল ঢালী ও সামছুল আরেফিন মুকুল মাস্টার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, ঘটনার বিষয়ে তৎকালীন চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ পাটওয়ারী বা তার সচিবের বক্তব্য জানা যায়নি।

দিনবদলবিডি/এমআর

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়