বুধবার

০২ ডিসেম্বর ২০২০


১৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৭,

১৬ রবিউস সানি ১৪৪২

দিন বদল বাংলাদেশ

শহরে গণমূত্রত্যাগ রোধে তাকলাগানো জার্মান কায়দা

|| দিনবদলবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:২৭, ১৭ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ২১:৪১, ১৭ নভেম্বর ২০২০
শহরে গণমূত্রত্যাগ রোধে তাকলাগানো জার্মান কায়দা

হাইড্রো ফোবিক রঙ করা দেয়ালে বা দরজায় কেউ প্রস্রাব করতে গেলেই উল্টো তার নিজের দিকে ফিরে আসে

ঢাকাসহ সারাদেশে কমবেশি উঁচু প্রাচীরে যে কমন কথাটি লেখা থাকে, তা হচ্ছে- এখানে প্রস্রাব করিবেন না, করিলে ৫০/১০০/৫০০ টাকা জরিমানা। এই সতর্কবাণী সূত্রে কখনো কাউকে জরিমানা নিতে বা দিতে দেখা না গেলেও দেয়ালওয়ালার মূত্রত্যাগ বিষয়ক মাথাব্যথা যে কখনোই কমে না, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। 

তবে বিভিন্ন সময় জনতার যত্রতত্র মূত্রত্যাগ নিরুৎসাহিতকরণে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে- অবশ্যই তা নামকা ওয়াস্তে। একবার সাবেক ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের পরামর্শে এই নিষেধাজ্ঞাটির  দেয়াল লিখন আরবি হরফে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনো কিছুই দেয়ালকে জনতার গণমূত্রের হাত থেকে বাঁচাতে পাড়ছে না। 

তবে এসব ক্ষেত্রে প্রচলিত কায়দার বিকল্পও ভেবেছেন কেউ কেউ। আমির খানের থ্রি ইডিয়টস সিনেমার মতো সিনেমাটিক কিছু না, বাস্তব কিছুই। যা করে সাফল্যও পেয়েছে জার্মানির সেন্ট পাওলি শহর কর্তৃপক্ষ। আমাদের মতো যত্রতত্র মূত্র বিসর্জন এই শহরটিতেও চলতো। বহু চেষ্টাতেও কোনোমতেই কমানো যাচ্ছিল না তীব্র অ্যামেনিয়ার কটুগন্ধযুক্ত তরল দিয়ে শহরের নিরীহ দেয়ালগুলোকে সিক্ত করার এই বেপরোয়া উপদ্রুপ। এরপর হঠাৎ করেই শহর কর্তৃপক্ষ এক তাক লাগানো আইডিয়া বের করে। 

সেন্ট পাওলি শহরে যত্রতত্র মূত্রত্যাগ রোধে নেয়া এই কায়দা কাজও করে দারুণ। পদ্ধতিটি ধার করা হয়েছে হাইড্রো ফোবিয়া বা জলাতঙ্ক থেকে। হাইড্রো মানে পানি বা জল আর ফোবিয়া মানে ভয় বা আতঙ্ক। এখানে অবশ্য বিষয়টি অন্যরকম একটু। এখানে জল দেখে আতঙ্ক নয়, বরং যে সকল বস্তু জলকে বিকর্ষণ করে বা দূরে ঠেলে দেয় সেই ‘হাইড্রো ফোবিক’ বস্তুর ব্যবহারকে বোঝানো হয়েছে।
 

প্রস্রাবে হাঁটার অনুপযুক্ত ফুটপাত

জার্মানির সরকার সেন্ট পাওলি শহরের সব দেয়াল থেকে শুরু করে ভবনসমূহের গেট সর্বত্র একধরণের হাইড্রো ফোবিক রঙে রাঙিয়ে দেয়। এর ফলে রং করা দেয়ালে বা দরজায় কেউ প্রস্রাব করতে গেলেই উল্টো তার নিজের দিকে ফিরে আসে! প্রথম কয়েকটি ঘটনায় বেশকিছু সাহেবসুবা-ভদ্দরলোক নিজের মূত্রে নিজেই নাজেহাল হলেন। এরপর ভোজবাজির মতো দ্রুতই বন্ধ হয়ে গেল ‘দেয়ালমূত্রণ’। এই পরিস্থিতিকে বলাই যায়- কে হায়, দেয়াল সিক্ত করতে গিয়ে নিজেই মূত্রসিক্ত হতে চায়! এরপর শহরটিতে যত্রতত্র মূত্রত্যাগ বন্ধ হলো- ব্যবহার বাড়লো গণশৌচাগারের। 

এ ঘটনার সময়কালে সেন্ট পাওলির দেয়ালে একটা মজার কথা লেখা শুরু হলো তার সারমর্ম অনেকটা এরকম- ‘আমার গায়ে প্রস্রাব করলে আমিও তোমার গায়ে মুতে দেব।’ 

শুরুতে ফেরা যাক, আমাদের দেশেও দেয়ালে প্রস্রাবের সমস্যা প্রকট। কিন্তু আমরা কি জার্মানির মতো কিছু করতে পারি না! করলেই কি দেয়ালে প্রস্রাব করা বন্ধ হবে? না কি নতুন কোনো পদ্ধতি বের করে ফের আগের মতোই চলতে থাকবে অসহনীয় অ্যামোনিয়া গন্ধযুক্ত জলে অলিগলি রাজপথের দেয়াল ভেজানো? এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার আগে চাই উপযুক্ত পদক্ষেপ। পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেটের ব্যবস্থা করে তারপর দেয়ালে হাইড্রো ফোবিক পেইন্ট দিলে আমরা হয়তো একটি দুর্গন্ধমুক্ত শহর আর ফুটপাথ পেতে পারি; যার দেয়ালগুলো অকারণেই সিক্ত হবে না গণমূত্রে।

দিনবদল বিডি/এইচ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়