মঙ্গলবার

০৯ মার্চ ২০২১


২৪ ফাল্গুন ১৪২৭,

২৪ রজব ১৪৪২

দিন বদল বাংলাদেশ

মঙ্গলে নাসার রোবটযানের অন্যতম কারিগর তিনি

রকমারি ডেস্ক || দিনবদলবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৪৬, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১  
মঙ্গলে নাসার রোবটযানের অন্যতম কারিগর তিনি

মঙ্গলে নাসার রোবটযানের অন্যতম কারিগর তিনি

সম্প্রতি মঙ্গল গ্রহে সফলভাবে অবতরণ করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার রোবটযান পারসিভিয়ারেন্স রোভার। গ্রহটিতে প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজবে রোভারটি। রোভারটিকে সেখানে অবতরনের ঐতিহাসিক মুহূর্তটি সবার প্রথমে ঘোষণা দিয়ে জানান ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন বিজ্ঞানী স্বাতী মোহন। তিনি এই 'মিশন মঙ্গল'-এর অন্যতম পুরোধা।

ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, নাসার এই স্বপ্নের মিশনের দায়িত্ব থাকা স্বাতীর জন্ম বেঙ্গালুরুতে। তার ১ বছর বয়সে পরিবার চলে যায় যুক্তরাষ্ট্রে।  

এই ভারতীয় কন্যা জানিয়েছেন, ৯ বছর বয়সে 'স্টার ট্রেক' শো দেখার পর থেকেই মহাকাশ সম্পর্কে তার আগ্রহ জন্মায়। কিন্তু এরপরেও ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন চোখে নিয়েই তার বড় হওয়া। পরে অবশ্য স্বপ্নের পাতায় নতুন অধ্যায় যোগ করে দিয়েছিল পদার্থবিদ্যার একটি ক্লাস। ১৬ বছর বয়সে স্বাতী সিদ্ধান্ত নেন ডাক্তার নয়, ইঞ্জিনিয়ার হতে চান তিনি। এরপরই কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়রিং-এ স্নাতক হন তিনি। পরে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে স্নাতকোত্তর ও ডক্টরেড ডিগ্রি লাভ করেন।  

পারসিভিয়ারেন্সের আগে 'ক্যাসিনি', ‘গ্রেল’ - এ দুটি মিশনে কাজ করেছেন স্বাতী। ২০১৩ সাল থেকে এই মঙ্গল অভিযানের অংশ হন এই ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী। পার্সিভিয়ারেন্স-এর ফ্লাইট কন্ট্রোলের দায়িত্বের পুরোভাগের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। পাসাডেনার জেট প্রপালসন ল্যাবরেটরিতে মিশন অপারেশনস সেন্টারে টানা তিরিশ ঘণ্টা নিজের সিটে বসেছিলেন স্বাতী।

লাল গ্রহের রুক্ষ মাটিতে পারসিভিয়ারেন্স রোভার নামার পর নিজের উচ্ছ্বাস চেপে রাখেননি স্বাতী। তাৎক্ষণিক এক টুইটবার্তায় তিনি জানান, পারসিভিয়ারেন্স সফলভাবে মঙ্গলের মাটিতে নেমেছে। এখন এটি প্রাণের সন্ধান করতে প্রস্তুত।  

স্বাতী বলেন, স্কুলের থেকে বেশি সময় আমি পারসিভিয়ারেন্সে কাটিয়েছি। আমার ছোট মেয়ের বয়সের থেকেও বেশি সময় এই মিশনকে আমি দিয়েছি। জীবনের একটা বড় অধ্যায়জুড়ে রয়েছে এই মিশন। 

২০৩ দিন আগে ৪৭ কোটি কিলোমিটারের দূরে লাল গ্রহের পথে রওনা দিয়েছিল নাসার পারসিভিয়ারেন্স রোভার। এ যাবৎ তাদের তৈরি সর্বাধুনিক রোভার বলে যাকে দাবি করছেন নাসার বিজ্ঞানীরা।

নাসার এক প্রশ্নোত্তর পর্বে মোহন বলেন, মঙ্গল গ্রহের দিকে মহাকাশযাত্রার সময়, আমাদের কাজ হচ্ছে আমরা কোন অবস্থানে আছি তা নির্ধারণ করা, মহাকাশযানটি সঠিক দিকে আছে কিনা তা নিশ্চিত করা ও সেটিকে যেদিকে যেতে চাই সেদিকে পরিচালনা করা। মঙ্গল গ্রহে প্রবেশ, অবরোহণ ও অবতরণের সময় জিএনএন্ডসি মহাকাশযানের অবস্থান নির্ধারণ করে এবং সেটিকে নিরাপদে অবতরণ করার জন্য পরিচালনা করে।

গত বৃহস্পতিবার নাসার নিয়ন্ত্রণকক্ষে ও বিশ্বজুড়ে দুজন ব্যক্তির আওয়াজ শোনা যায়, যাদের মধ্যে একজন ছিলেন তিনি। বিশ্বকে জানিয়েছেন, ভিন্ন কোনো গ্রহে প্রাণের সন্ধান করা বিষয়ক নাসার প্রথম অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ সফলতার খবর।

দিনবদলবিডি/এমআর

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়