বুধবার

০২ ডিসেম্বর ২০২০


১৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৭,

১৬ রবিউস সানি ১৪৪২

দিন বদল বাংলাদেশ

উল্লাপাড়ায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ‘কুত্তা গাড়ি’

সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা || দিনবদলবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৪২, ১৮ নভেম্বর ২০২০  
উল্লাপাড়ায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ‘কুত্তা গাড়ি’

ছবি: সংগৃহীত

সাধারণত গ্রামাঞ্চলে মালামাল পরিবহনের জন্য জনপ্রিয় হচ্ছে শ্যালো ইঞ্জিন চালিত নছিমন, করিমন, ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক, অন্য যে কোনো থ্রি-হুইলার বা হিউম্যান হলার টাইপের গাড়ি। তবে এই তালিকায় নতুন সংযোজন হয়েছে ‘কুত্তা গাড়ি’। বিস্ময়কর হলেও সত্য, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় মানুষ এই নামেই চিনেন গাড়িটিকে।

চার বা ছয় চাকার গাড়িটি দেখতে অনেকটা ট্রাকের মতো। তবে আকার ট্রাকের চেয়ে অনেক ছোট। অন্য শ্যালো ইঞ্জিন চালিত গাড়ির চেয়ে এই গাড়িটির দুর্ঘটনার হার বেশি নয়। টুকটাক দুর্ঘটনা বাদ দিলে পণ্য পরিবহনে মানুষের উপকারেই লাগে গাড়িটি। 

কিন্তু কীভাবে এই নামকরণ হলো, সেটা স্পষ্ট না হলেও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ভিন্ন ভিন্ন মত পাওয়া গেছে। তবে সকলেই এক জায়গায় স্থির তা হলো এই গাড়ির সামর্থ। যে কোনো গাড়ি যে কোনো জায়গায় যেতে পারে না, এই ‘কুত্তা গাড়ি’ সবখানেই যেতে পারে। এটার আসল নাম লাটাহাম্বার- এমনটাই জানা গেছে স্থানীয় সূত্রে।

গাড়ির শক্তি বেশি এই জন্যই নাকি গাড়ির নাম কুত্তা গাড়ি। আবার কেউ বলছেন এই গাড়ি পানির মধ্যেও নেমে চলতে পারে। অর্থাৎ অর্ধেক ডুবে গেলে ও নাকি চলতে পারে, এমন বৈশিষ্ট্যের জন্যও নাকি গাড়িটিকে কুত্তা গাড়ি বলা হয়। তবে এই গাড়িকে উঁচু নিচু খালবিল এলাকায় চলতে দেখা যায়। ইট মাটি ও মালামাল বহনে সক্ষম কুত্তা গাড়ি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয় মাটি ভরাটের কাজে।

এই গাড়িতে ৯ থেকে ১০ টন মালামাল নাকি খুব সুন্দরভাবেই ধরে যাবে। তবে সাইজে ছোটও কিছু গাড়ি দেখা যায়।

কবে এই গাড়ি তৈরি হয়েছে এই বিষয়ে জানা যায় খুব বেশিদিন আগে এই গাড়ির প্রচলন ঘটেনি। সাত থেকে আট বছর আগে এই গাড়ির প্রচলন শুরু হয় উল্লাপাড়ায়। উল্লাপাড়ার বাইরে এই গাড়ি তেমনটা দেখা যায় না। তবে নছিমন করিমনের পাশপাশি কুত্তা গাড়ি প্রচুর রয়েছে উল্লাপাড়ায়। এটি কে বানিয়েছেন, তা জানা যায়নি। এই গাড়ি নিয়ে সংবাদ মাধ্যমেও তেমন কোনো খবর নেই।  গাড়িটি বানাতে খরচ হয় সাড়ে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার মতো।  

স্থানীয় এক ব্যক্তির জানায়, কুত্তা (কুকুর) যেমন সব জায়গায় যায়, এই গাড়িও সব জায়গায় যায়, মূলত এই গাড়িকে এই কারণেই কুত্তা গাড়ি হিসেবে অভিহিত করা হয়। অভিহিত বললে ভুল হবে। এই গাড়ির নাম দেওয়া হয়েছে কুত্তা গাড়ি, অন্য নামে কেউ চিনবে না।

কুত্তা গাড়ির ইঞ্জিন একেবারে সামনে উন্মুক্ত। স্থানীয়ভাবে শ্যালো মেশিন দিয়ে এর ইঞ্জিন তৈরি করা হয়। তবে দেশে এ ধরনের গাড়ির কোন বৈধতা নেই। সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণও শ্যালো ইঞ্জিন চালিত এসব গাড়ি। 

দিনবদল বিডি/এআর

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়