বুধবার

০২ ডিসেম্বর ২০২০


১৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৭,

১৬ রবিউস সানি ১৪৪২

দিন বদল বাংলাদেশ

তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা

রকমারি ডেস্ক || দিনবদলবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:২৮, ১৯ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৪:৩২, ১৯ নভেম্বর ২০২০
তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা

তিতুমীর জমিদার ও ইংরেজদের বিরুদ্ধে সরাসরি বিদ্রোহ ঘোষণা করেন।

আজ ১৯ নভেম্বর সৈয়দ মীর নিসার আলী (তিতুমীর) এর মৃত্যুবার্ষিকী। তিতুমীরকে স্মরণ করে দিবসটি বাংলাদেশসহ ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্থানে পালিত হয়।

তিতুমীর শুধু ব্রিটিশ শাসকদের বিরুদ্ধেই লড়াই করেননি, বাংলার জমিদারদের বিরুদ্ধে কৃষকদের সংগঠিত করেছিলেন, প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন তার বাঁশের কেল্লা থেকে।

আরো পড়ুন >>> তৃষ্ণার্ত কাকের গল্প জানা থাকলেও এবার দেখে নিন (ভিডিও)

তিতুমীরের জন্ম ১৭৮২ সালে পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসত মহকুমার চাঁদপুর গ্রামে। বাবা সৈয়দ মীর হাসান আলী এবং মা আবিদা রোকেয়া খাতুন। গ্রামের স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের পর তিনি স্থানীয় একটি মাদরাসায় লেখাপড়া করেন।

তিতুমীর ছোটবেলা থেকে কৃষকদের ওপর জমিদার, নীলকর ও ইংরেজদের অত্যাচার করতে দেখেছেন। তরুণ বয়সে তিনি নিরীহ কৃষকদের রক্ষা করার শপথ নেন। নিজে শিখে নেন মুষ্টিযুদ্ধ, লাঠিখেলা, তরবারি চালানো ইত্যাদি। ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন এক বিশাল বাহিনী।

আরো পড়ুন >>> ২০ লাখ ডলারে বিক্রি হলো এই কবুতরটি

ঠিক একই সময়ে, অর্থাৎ ১৮১৮ সালে দিল্লির উত্তর প্রদেশের রায়বেরিলির সৈয়দ আহমদ ধর্মীয় গোঁড়ামি আর কুসংস্কারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। ইতিহাসবিদরা এ আন্দোলনের নাম দেন ‘ওয়াহাবি আন্দোলন’। কিন্তু সৈয়দ আহম্মদ নিজে আন্দোলনকে বলেছেন ‘তরিকায়ে মুহাম্মদীয়া’। তিনি ১৮২১ সালে কলকাতা হয়ে হজের উদ্দেশ্যে মদিনায় যান। একই সময়ে হজব্রত পালন করতে মদিনায় যান তিতুমীরও। সেখানেই তাদের দুজনের দেখা হয়। সৈয়দ আহম্মদের পাণ্ডিত্য এবং সরল অনাড়ম্বর জীবনযাপন দেখে মুগ্ধ হন তিতুমীর। এ সময়ে তিতুমীর তার শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন।

আরো পড়ুন >>> সন্তানের জন্য বাবার লেখা অসাধারন এক চিঠি

দুই বছর মদিনায় থাকার পর দেশে ফিরে আসেন তিতুমীর। দেশে ফিরেই তিনি চব্বিশ পরগনা ও নদিয়া জেলায় জোরদার করেন ‘তরিকায়ে মুহাম্মদীয়া’ আন্দোলন। ১৮২৭ সালে ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন ধীরে ধীরে অত্যাচারী জমিদার, নীলকর ও ইংরেজবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। তিতুমীরের উত্থানে ভীত হয়ে পড়ে জমিদাররা। স্থানীয় জমিদার কৃষ্ণচন্দ্র দেব তিতুমীরকে শায়েস্তা করতে বেশ কয়েকবার লাঠিয়াল বাহিনী পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু লাঠিয়াল বাহিনী বারবারই পরাস্ত হয়ে ফিরে আসে।

এতে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে এক অদ্ভুত কাণ্ড করে বসে জমিদার কৃষ্ণচন্দ্র দেব। সে ‘দাঁড়ি’ রাখার ওপর কর বসিয়ে তা আদায় করতে শুরু করে। এতে রেগে গিয়ে ১৮৩০ সালের ৬ নভেম্বর প্রায় ৩০০ অনুসারী নিয়ে জমিদার কৃষ্ণচন্দ্র দেবের বাড়ি পুঁড়া গ্রামে হামলা চালায় তিতুমীর। এতে উভয় পক্ষ ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আরো পড়ুন >>> ধরেই নেয়া হয় মানসিক রোগীর গায়ে হাত তোলা জায়েজ...

এরপর তিতুমীর জমিদার ও ইংরেজদের বিরুদ্ধে সরাসরি বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তিনি ইংরেজদের খাজনা না দিয়ে তার কাছে খাজনা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এ ঘোষণা মানতে নারাজ জমিদাররা। গোবরডাঙ্গার জমিদার কালীপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায় তিতুমীরকে কর দিতে সরাসরি অস্বীকার করে। তিতুমীর ও কালীপ্রসন্নের মধ্যে যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে ওঠে। কালীপ্রসন্নকে সাহায্য করতে তার বন্ধু লাটবাবু কলকাতা থেকে দুইশ হাবশি পাইক পাঠিয়ে দেয়। দুইশ লাঠিয়াল পাঠায় মোল্লাহাটি নীলকুঠির ম্যানেজার। কালীপ্রসন্নের নিজেরও ছিল চারশ পাইক, দুইশ লাঠিয়াল আর কয়েকটি হাতি। সবাই মিলে আক্রমণ করে তিতুমীরকে। বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করে তাদের তাড়িয়ে দেন তিতুমীর।

এ ঘটনার পর টনক নড়ে ইংরেজদের। বাংলার ছোটলাটের নির্দেশে কলকাতা থেকে সিপাহিদের একটি দল যশোরের বাগারি নিমক পোক্তানে যায়। সেখান থেকে একজন হাবিলদার, একজন জমাদার ও ২০ সিপাহি নিয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আলেকজান্ডারের নেতৃত্বে নারিকেলবেরিয়ায় অভিযান চালানো হয়। বশিরহাটের দারোগা রামলাল চক্রবর্তী তার দলবল নিয়ে অভিযানে যোগ দেন। এ সময় তিতুমীরের নির্দেশে তার ভাগিনা গোলাম মাসুম পাঁচশ অনুসারী নিয়ে তাদের ঘিরে ফেলেন। তুমুল যুদ্ধ হয় এ সময়। ইংরেজ বাহিনী আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের কোনো সুযোগই পায় না। অবস্থা বেগতিক দেখে ঘোড়া ছুটিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় আলেকজান্ডার। আটক হয় দারোগা রামলাল। যুদ্ধে ইংরেজ পক্ষের একজন জমাদার, ১০ সিপাহি ও তিন বরকন্দাজ নিহত হয়।

আরো পড়ুন >>> উল্লাপাড়ায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ‘কুত্তা গাড়ি’

এ ঘটনার পর তিতুমীর ভারতের স্বাধীনতা দাবি করেন এবং নিজেকে স্বাধীন বাদশা বলে ঘোষণা করেন। মঈনুদ্দিন তার প্রধানমন্ত্রী হন আর প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব নেন গোলাম মাসুম ওরফে মাসুম খাঁ। তিতুমীর বুঝতে পারেন, ইংরেজরা স্বাধীনতার এই ঘোষণা মেনে নেবে না কোনোভাবেই। তাই ইংরেজদের সঙ্গে তার সংঘাত অনিবার্য। সশস্ত্র সংগ্রামের প্রস্তুতি হিসেবে নির্মাণ করেন ঐতিহাসিক বাঁশের কেল্লা। এই কেল্লার সঙ্গে মিলিয়েই আজো স্মরণ করা হয় তিতুমীরের নাম।

দিনবদল বিডি/জিএ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়