করোনা পরীক্ষায় জালিয়াতি : সাবরিনা-আরিফুলের ভাগ্য নির্ধারণ মঙ্গলবার

দিন বদল বাংলাদেশ ডেস্ক || দিন বদল বাংলাদেশ

প্রকাশিতঃ রাত ০৯:৪২, সোমবার, ১৮ জুলাই, ২০২২, ৩ শ্রাবণ ১৪২৯
ডা. সাবরিনা চৌধুরী ও আরিফুল হক। ছবি: সংগৃহীত

ডা. সাবরিনা চৌধুরী ও আরিফুল হক। ছবি: সংগৃহীত

করোনাভাইরাস পরীক্ষা নিয়ে জালিয়াতির মামলায় জেকেজি হেলথকেয়ারের সিইও আরিফুল হক চৌধুরী, তার স্ত্রী ডা. সাবরিনা চৌধুরীসহ আট আসামির সাজা হবে কি না, তা জানা যাবে আগামীকাল মঙ্গলবার।

এদিন ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেন এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন। রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে গত ২৯ জুন তিনি রায়ের এ দিন ঠিক করে দিয়েছিলেন।

এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজাদ রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি।’

মামলার বাকি ছয় আসামি হলেন- আরিফুলের বোন জেবুন্নেছা রিমা, সাবেক কর্মচারী হুমায়ুন কবির হিমু ও তার স্ত্রী তানজিলা পাটোয়ারী, জেকেজির কোঅর্ডিনেটর আবু সাঈদ চৌধুরী, জেকেজির কর্মচারী বিপুল দাস ও শফিকুল ইসলাম রোমিও।

তাদের বিরুদ্ধে জাল জালিয়াতি, বিশ্বাসভঙ্গ, অর্থ আত্নসাৎ, প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে এ মামলায়। দোষী সাব্যস্ত হলে সব ধারা মিলিয়ে মোট ২১ বছর ৬ মাসের শাস্তি হতে পারে তাদের। তার মধ্যে এক ধারায় সর্বোচ্চ শাস্তি সাত বছরের কারাদণ্ডের সুযোগ আছে।

আসামিপক্ষে এ মামলা পরিচালনা করেন আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী এবং ফারুক আহাম্মদ।

সমাজী বলেন, ‘ডা. সাবরিনার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, রাষ্ট্রপক্ষ তা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়নি। আশা করছি আমরা ন্যায়বিচার পাব। আমরা খালাসের রায় পাব।’

দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে ২০২০ সালের মার্চে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করে পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের দায়িত্ব নিয়েছিল ওভাল গ্রুপের প্রতিষ্ঠান জেকেজি হেলথকেয়ার।

কিন্তু জুনের শেষ দিকে অভিযোগ আসে, সরকারের কাছ থেকে বিনামূল্যে নমুনা সংগ্রহের অনুমতি নিয়ে বুকিং বিডি ও হেলথকেয়ার নামে দুটি সাইটের মাধ্যমে টাকা নিচ্ছিল জেকেজি। নমুনা পরীক্ষা না করে রোগীদের ভুয়া সনদও তারা দিচ্ছিল।

রাজধানীর কল্যাণপুরের কামাল হোসেন নামে এক ব্যক্তির অভিযোগের সত্যতা পেয়ে গত ২২ জুন জেকেজি হেলথ কেয়ারের সাবেক গ্রাফিক ডিজাইনার হুমায়ুন কবীর হিরু ও তার স্ত্রী তানজীলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পরে তাদের কম্পিউটার থেকে চারজন প্রবাসীরসহ ৪৩ জনের নামে তৈরি করা করোনাভাইরাস পরীক্ষার ভুয়া সনদ পাওয়া যায়।

পরদিন কামাল হোসেন বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় একটি মামলা করেন ওই দুইজনের বিরুদ্ধে। সরকারি নাম ব্যবহার করে টাকা আত্মসাৎ, কাজে অবহেলার মাধ্যমে জীবন বিপন্নকারী রোগের সংক্রামণ বিস্তারের ঝুঁকি তৈরি, করোনাভাইরাসের সনদ জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয় সেখানে।

হুমায়ুন ও তার স্ত্রীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে তেজগাঁও থানা পুলিশ জেকেজির সিইও আরিফুল চৌধুরী, তার বোন জেবুন্নেছাসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করে।

পরে ১২ জুলাই জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের চিকিৎসক ডা. সাবরিনাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জেকেজির সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

ডা. সাবরিনা আরিফ ও আরিফুল চৌধুরীডা. সাবরিনা আরিফ ও আরিফুল চৌধুরীপ্রায় দুই মাস তদন্ত শেষে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক লিয়াকত আলী ১৩ আগাস্ট অভিযোগপত্র দেন। নমুনা পরীক্ষা না করেই ২৭ হাজার মানুষকে ভুয়া রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ আনা হয় সেখানে।

অভিযোগপত্রে সাবরিনা ও আরিফকে জালিয়াতির ‘হোতা’ বলে উল্লেখ করা হয়। আর বাকি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ওই জালিয়াতিতে ‘সহযোগিতা’ করেছেন।

ওই বছর ২০ অগাস্ট দণ্ডবিধির ১৭০/২৬৯/৪২০/৪০৬/৪৬৬/৪৬৫/৪৭১/৩৪ ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ঢাকার মহানগর হাকিম সারাফুজ্জামান আনছারী।

এর মধ্যে ১৭০ ধারায় সরকারি কর্মচারীর ভুয়া পরিচয় দিলে দুই বছর পর্যন্ত বিনাশ্ৰম কারাদণ্ড; ২৬৯ ধারায় বিপজ্জনক রোগের সংক্রমণ ছড়াতে পারে জেনেও অবহেলার অভিযোগে ৬ মাস; ৪০৬ ধারায় অপরাধমূল বিশ্বাসভঙ্গের জন্য তিন বছর; ৪২০ ধারায় প্রতারণার দায়ে সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড; ৪৬৫ ধারায় জালিয়াতির দায়ে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড; ৪৬৬ ধারায় জালিয়াতির দায়ে সাত বছর কারাদণ্ড; ৪৭১ ধারায় জাল দলিলকে খাঁটি হিসেবে দেখানোর দায়ে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

গত ২০ এপ্রিল এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। অভিযোগপত্রের ৪০ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৬ জন বিভিন্ন সময়ে সাক্ষ্য দেন। পরে ১১ মে আত্মপক্ষ সমর্থনে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।

দিনবদলবিডি/এইচএআর

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়