জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, জনগণকে জেগে উঠার আহ্বান ফখরুলের

দিন বদল বাংলাদেশ ডেস্ক || দিন বদল বাংলাদেশ

প্রকাশিতঃ বিকাল ০৫:২২, শনিবার, ৬ আগস্ট, ২০২২, ২২ শ্রাবণ ১৪২৯
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে মরার ওপরে খাড়া ঘা উল্লেখ করে সকল গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে জেগে ওঠার ডাক দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার সকালে নয়া পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক ছাত্র সমাবেশে তিনি এই আহ্বান জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ভয়ংকর প্রভাব ফেলবে সমগ্র দেশের অর্থনীতির ওপর। এটা বাংলাদেশের মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

তাই আর সময় নেই। আমাদের সকলকে জেগে উঠতে হবে, জেগে উঠে এদের (সরকার) পরাজিত করতে হবে। আসুন, আমরা সেই লক্ষ্যে আরো দৃঢ় ঐক্য গড়ে তুলি। আজকের এই সমাবেশ থেকে আমি আহ্বান জানাই ছাত্রদল, গণতান্ত্রিক ছাত্র সংগঠন, আপনারা ঐক্য গড়ে তুলুন। রাজনৈতিক দলগুলোকে আহ্বান জানাই, আসুন জাতির প্রয়োজনে, আমাদের ভবিষ্যতে প্রজন্মের প্রয়োজনে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ভয়াবহ সরকারকে সরিয়ে  জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করি।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, জ্বালানি তেলে মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যাবে পরিবহন ব্যয়, পরিবহন ভাড়া। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য চাল-ডাল-আটা-তেল আবার দ্বিগুণ থেকে দ্বিগুণ হয়ে যাবে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে আমাদের সাধারণ মানুষ। এভাবে বার বার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হচ্ছে, গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে, সোয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে।

মানুষের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষ এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। মানুষের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। আজকে আমরা অন্যায়-নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার, এই সরকার আজকে সবচেয়ে ভয়াবহ দানবে পরিণত হয়েছে। তারা আজকে বাংলাদেশের সমস্ত অর্জনগুলোকে কেড়ে নিচ্ছে। সেজন্যই এদেরকে ক্ষমতায় থেকে সরিয়ে দেওয়াই হচ্ছে একমাত্র দেশপ্রেমিকের কাজ।

তিনি বলেন, সরকার আইএমএফের কাছে ঋণ চেয়েছে প্রায় ৪০০ কোটি ডলার। কারণ, তারা এত মিথ্যাচার করেছে যে, রিজার্ভে এত টাকা আছে, এত ডলার জমা আছে তাদের কোনো চিন্তা কারণ নেই। আজকে রিজার্ভ কমে যাওয়ার কারণে আইএমএফ, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, এডিবির কাছে ডলার ঋণ চেয়েছে। আইএমএফের ডলার ঋণের শর্ত খুব শক্ত। তারা বলেছে, কোথাও কোনো অধিক ব্যয় করা যাবে না। তারা বলেছে, যেসব সমস্ত খাতে ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে সেই ভুর্তকিগুলো প্রত্যাহার করা হোক।

বিএনপি নয়, সরকারই চক্রান্ত করছে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, অন্যায়-অত্যাচার-নিপীড়নের বিরুদ্ধে কথা বললে সরকার বলে চক্রান্ত। চাক্রান্ত তো করেন আপনারা। বার বার বলেছি কে চক্রান্ত করছে বলেন। আমরা চক্রান্ত করি না। আমরা প্রকাশ্যে ঘোষণা নিয়ে এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য জনগণের কাছে যাচ্ছি এবং তাদের নিয়ে আমরা রাজপথে ফয়সালা করব। আমাদের নেতা তারেক রহমান খুব পরিষ্কার করে বলে দিয়েছেন ফয়সালা হবে রাজপথে।

তিনি বলেন, আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে নিজেদের সংগঠিত করে, জনগণকে সংগঠিত করে, সকল রাজনৈতিক শক্তিকে সংগঠিত করে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ভয়াবহ ফ্যাসিবাদী সরকারকে পরাজিত করতে আমরা সক্ষম হবো। তাহলেই ‘নুরে আলম ও আবদুর রহিমের যে রক্ত সেই রক্তের ঋণ আমরা শোধ করতে পারব’ বলে মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব।

সমাবেশে ছাত্রদল মহানগর উত্তর-দক্ষিণ-পূর্ব-পশ্চিম, ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মিছিল নিয়ে এই সমাবেশে সমবেত হয়। সকাল সাড়ে ৮টায় থেকে নয়া পল্টনে কার্যালয়ের সামনে ছাত্র দলের নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করে।

ছাত্রদল সভাপতি কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ এবং সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবের পরিচালনায় ছাত্র সমাবেশে বিএনপির শামসুজ্জামান দুদু, আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, রুহুল কবির রিজভী, আসাদুজ্জামান রিপন, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, নাজিম উদ্দিন আলম, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, কামরুজ্জামান রতন, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, আজিজুল বারী হেলাল, আমিরুল ইসলাম আলীম, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, মোনায়েম মুন্না, আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, শহিদুল ইসলাম বাবুল, হাবিবুর রশীদ হাবিব, রাজীব আহসান, আকরামুল হাসান, ফজলুর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন শ্যামল, মহানগর বিএনপির রফিকুল আলম মজনু, আমিনুল হক, ছাত্র দলের রাশেদ ইকবাল খান, আবু আফসার মোহাম্মদ ইয়াহিয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আখতার হোসেন প্রমুখ নেতারা বক্তব্য রাখেন।

দিনবদলবিডি/এইচএআর

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়