৭১ এর পর কেন ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি পাকিস্তান

দিন বদল বাংলাদেশ ডেস্ক || দিন বদল বাংলাদেশ

প্রকাশিতঃ রাত ০৮:২৬, মঙ্গলবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৩, ১০ মাঘ ১৪২৯

বর্তমানে তাদের বিদেশি রিজার্ভের পরিমাণ ৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। এর প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার দিয়েছে সৌদি আরব। ফলে তাদের রিজার্ভ মূলত ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। এই রিজার্ভ দিয়ে মাত্র তিন সপ্তাহের অতি জরুরি পণ্য আমদানি করতে পারবে পাকিস্তান।

তাদের এই চরম সংকটময় সময়ে পাশে নেই তেমন কেউ। কারণ ইতিমধ্যে তাদের ঋণের পরিমাণ ঝুঁকির মাত্রা ছাড়িয়েছে। বর্তমানে দেশটির মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ৯২ হাজার ৮০০ টাকা, যা বাংলাদেশের ৪ গুণ বেশি।

অতীতে নেয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধের ক্ষমতাও শেষ হয়েছে দেশটির। এ কারণে আর কেউ ঋণ দিতে চাচ্ছে না। সর্বশেষ আইএমএফ পাকিস্তানকে দেয়া ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ প্রদানের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে।তারা এই ঋণ এখন বাংলাদেশকে দিচ্ছে।

দেশটির স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়েছে।খাদ্যমূল্য সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। কাঁচামালের অভাবে ছোট বড় হাজার হাজার শিল্প বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া গত বছরের ভয়াবহ বন্যায় পাকিস্তানের প্রধান অর্থকরী ফসল তুলা ধ্বংস হয়ে যায়। ফলে কাঁচামালের অভাবে হাজার হাজার ছোট বড় বস্ত্রকল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ৭০ লাখ লোক কর্মহীন হয়ে পড়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশটির সিংহভাগ অর্থ ব্যয় হয় সশস্ত্র বাহিনীর পিছনে। শুধু প্রতিরক্ষা নয়, দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায়ও বিশাল অঙ্কের টাকা খরচ করতে হচ্ছে তাদের। যে কারণে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করতে পারছে না দেশটি।

পাকিস্তানের সবচয়ে জনপ্রিয় পত্রিকা ‘ডন’-এর  তথ্য অনুযায়ী, ৫০ দিনে ১০০ টিরও বেশি হামলা হয়েছে পাকিস্তানে। ২০০২ সাল থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে জঙ্গিবাদের কারণে পাকিস্তানে প্রাণ হারান ৭০ হাজারেরও বেশি নাগরিক। পারমাণবিক অস্ত্র এবং যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্রে সজ্জিত ৬ লক্ষ সেনা থাকলেও সেনাবাহিনীর অভ্যন্তর থেকে জঙ্গিদের মদদ দেয়ার ফলে তাদের দমন করা যাচ্ছে না।  

একসময় এই জঙ্গি গোষ্ঠিকে মদদ দেয়ার কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমান অর্থ পেত দেশটি। কিন্তু বিগত বছরগুলোয় মার্কিন নীতি পরিবর্তন হওয়ায় সেই অর্থও আসা বন্ধ হয়েছে। উল্টো পাকিস্তান নিজেই আজ হয়ে উঠেছে জঙ্গিবাদীদের নিশানা।

সবদিক সামলাতে গিয়ে পাকিস্তানের অর্থনীতি খাদের কিনারায় দাঁড়িয়েছে। এমনকি পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের বন্ধু চীনও এমন বিপদের দিনে সাহায্য দেয়াতো দূরের কথা উল্টো পাওনা ঋণ ফেরত চাইছে।

(সূত্র:বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত ফারাজী আজমল হোসেন এর লেখা অবলম্বনে)

দিনবদলবিডি/Rakib

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়