পরিবারে মহিরনদের ঠাই হয় না

সুপ্তমত মুক্তমত ডেস্ক || দিন বদল বাংলাদেশ

প্রকাশিতঃ বিকাল ০৫:২১, বুধবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
মহিরন

মহিরন

মাঝে মধ্যে তার সাথে দেখা হয় গোসাই জোয়াইর  বাজারে। কাঁকে একটা পোটলা আর হাতে ব্যাগ নিয়ে ঘুড়ে বেড়ান। দেখা হলেই কাছে এসে হাত পেতে বলেন, বাবা কবে আইছ? ১০টা ট্যাহা দেও। আমি যতটা পারি  দেই। সামান্যই তার দাবি। একই সময় যতবার দেখা হয় হাত পাতেন- বাবা, ১০টা ট্যাহা  দিবা?এভাবে এর ওর কাছে হাত পাতেন। অনেকে দেন। অনেকে ফিরিয়ে দেন। কেউ গালমন্দও করেন।

এবার হঠাৎ তিনি একদিন সকালে বাড়িতে এসে উপস্থিত। অন্য কোনো কারণে নয়। সেই পুরনো দাবি- বাবা, তুমি আইছ হুইনা আইলাম। আমারে ১০টা ট্যাহা দিবা? 
- দিবো। কিন্তু এত সকালে কেন? 
- অ্যাবাই আইলাম। যাইগা।
- যাবেন কেন, টাকা নিয়া যান। কি খাইছেন?
- কুনতাই না। 
- একটা কলা খান। বসেন।
ঘরে কিছু না থাকায় তাকে শুধু কলাটাই দেই। বারান্দায় বসে তিনি কলা খান। পরে মনে হয় গাছের পাকা পেপে ছিল!
- চাচী, গাছের পাকা পেপে আছে। একটা দেই, নিয়া কাইট্যা খাইয়েন।
- আইচ্ছো। দেও। একটু থেমে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে বলেন- তুমি খাবা না?.................। আমার বুক ভেঙ্গে কান্না আসে। সামলে  নিয়ে
আমি তাকে কিছু টাকা দিয়ে বলি, ভালো মন্দ কিছু কিনা খাইয়েন।
আইচ্ছো। বলে চলে যেতে থাকলে ডাক দিয়ে বলি, চাচী একটু খাড়ান, আপনের একটা ছবি তুইলা রাখি। তিনি দাড়ান। এবং এই ছবি ২টি তুলে তাকে দেখাই। বলেন সুন্দর হইছে! 
জানতে চাই, ছেলেরা ভাত দেয় না?
- না বাবা। ওগো বউরা কয়, রাইন্দা খা গা।
- বড় ছেলের পোলাপানে দেয় না।
- না। হেয় তো মরছে। অন্যগুনাও দেয় না।
জানতে চাইলে বলেন- তার নাম- মহিরন। বড় ছেলের নাম মফিজ, বাড়ি দক্ষিণ পাড়া।
এই চিত্র দেশের অনেক পরিবারেই আছে। কি শিক্ষিত, কি অশিক্ষিত! নিজে না খেয়ে ছেলে মেয়েকে শিক্ষিত করেন বাবা মা। কিন্তু বৃদ্ধ অসহায় হলে সেই শিক্ষিত ছেলে মেয়ের সংসারে তাদের স্থান হয় না। স্থান হয় না অনেক ধনাঢ্যদের বাড়িতেও! পরিবারে সবার ঠাই হলেও শুধু মহিরনদের ঠাই হয় না। সবার ভাত কাপড় হলেও শুধু বৃদ্ধ মা- বাবার বেলায় ভাত কাপড়ের অভাব আর ঘুচে না!
এই মানসিক দীনতা থেকে আল্লাহ আমাদের মুক্তি দিন।

(ছবি ও লেখা: ‘আমাদের গ্রাম’ ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত)

দিনবদলবিডি/এমআর

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়