শিক্ষক হত্যা: আশুলিয়ার সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান শুরু

দিন বদল বাংলাদেশ ডেস্ক || দিন বদল বাংলাদেশ

প্রকাশিতঃ বিকাল ০৩:০৩, শনিবার, ২ জুলাই, ২০২২, ১৮ আষাঢ় ১৪২৯
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

আজ শনিবার (২ জুলাই) থেকে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল অনেকটা কম। এছাড়া আগামীকাল থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে ঈদের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ঈদের পর আগামী ১৬ জুলাই থেকে যথারীতি শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তবে ছুটি শেষে আজ দুপুরে গ্রেপ্তার বখাটে জিতুর বিচারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

এদিকে, গেল ৩০ জুন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক কমিটির বৈঠকে জিতুকে প্রতিষ্ঠান থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে। পরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার প্রধান আসামি জিতুকে গ্রেপ্তারের পর আজ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শিক্ষক উৎপল কুমার হত্যাকাণ্ডের পর গেল রবিবার থেকে প্রতিষ্ঠানটি খোলা থাকলেও বন্ধ ছিল সব কার্যক্রম। এরই মধ্যে দোষীদের বিচার দাবি করে বেশ কয়েকদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনসহ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে আসছিল। সেই আন্দোলনে যোগ দেয় সাভারে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা।

হাজী ইউনুছ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘উৎপল স্যার আমাদের একজন সিনিয়র শিক্ষক ছিলেন। তিনি শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতিও ছিলেন। তিনি এখন আমাদের মাঝে নেই। আমরা মর্মাহত। এখন আমাদের মনের অবস্থা ভালো না। আজকে স্কুলের সকল কার্যক্রম চালু হয়েছে। আমাদের ক্লাসও আজকে থেকে শুরু হয়েছে। তবে ছাত্রী-ছাত্রীদের তেমন উপস্থিতি নেই। অন্যান্য দিনের তুলনায় আজকে ৫০ শতাংশের মতো শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছে।

সাইফুল হাসান বলেন, আমরা আজকে ক্লাস করিয়ে ঈদের ছুটি দিয়ে দিব। এরই মধ্যে আমাদের সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। আগামীকাল রবিবার (৩ জুলাই) থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত ঈদের ছুটি থাকবে। ১৬ জুলাই থেকে আমাদের স্কুলের সকল কার্যক্রম আবার চালু হবে।

এদিকে, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সকাল থেকে পুলিশ টহল রয়েছে। এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার এসআই আল মামুন কবির বলেন, নিরাপত্তাসহ শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে আমরা টহল দিচ্ছে। যাতে কোনো ধরনের নিরাপত্তার ঘাটতি না থাকে সেটিও দেখছি।

গত ২৫ জুন দুপুরে আশুলিয়ার চিত্রশাইল এলাকায় হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠে প্রকাশ্যে শিক্ষক উৎপলকে ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে আঘাত করেন শিক্ষার্থী জিতু। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৭ জুন মারা যান তিনি। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় নিহত শিক্ষকের ভাই বাদী হয়ে মামলা করলে ২৮ জুন রাতে কুষ্টিয়া থেকে জিতুর বাবা উজ্জ্বল হাজীকে ও ২৯ জুন গাজীপুর থেকে জিতুকে গ্রেপ্তার করা হয়।

দিনবদলবিডি/এইচএআর

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়